Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৯
সংসদে বিল পাস
প্রতারণা মামলা দুদক থেকে ফের পুলিশের কাছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

আটক ব্যক্তির জামিন পাওয়ার অধিকার দিয়ে সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৬ কণ্ঠভোটে সংসদে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার তদন্ত ভার আবার পুলিশের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এ আইনে।

দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর আলোকে পুলিশ এখন আগের মতো প্রতারণার অপরাধ তদন্ত করতে পারবে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করা যাবে।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে গতকাল সংসদের বাজেট অধিবেশনের বৈঠকে বিলটি পাস হয়। সংসদ কার্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলের ওপর বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের আনীত জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও ফখরুল ইমামের দেওয়া দুটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া বিলটি পাসের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। বিলটি পাস হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি সম্পর্কিত এবং সরকারি ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা বা জালিয়াতি মামলা ছাড়া অন্যসব প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলার দায়িত্ব পুলিশ পাবে।

২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অপরাধজনিত বিশ্বাসভঙ্গের মতো বিষয়গুলো দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের তালিকায় ছিল। ২০০৯ সালে মুদ্রা পাচারের অভিযোগও দুদকের তফসিলে যুক্ত হয়। আর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এক সংশোধনীতে ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারার অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও দুদকের ওপর চলে যায়। অন্য ধারাগুলো ব্যক্তিগত অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার ধারা।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত এসব ধারার মামলাগুলোর তদন্ত করত পুলিশ। বিচার চলত হাকিম আদালতে। কিন্তু ‘ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধগুলোর বিচারের এখতিয়ার জেলা জজ আদালতের হাতে চলে যায়। আর জজ আদালতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এসব মামলার বিচারকাজে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা।

রেলের সম্পদ দখলে সাত বছরের দণ্ড রেলওয়ের সম্পত্তি চুরি, অবৈধ দখলে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারসহ সর্বোচ্চ সাত বছরের দণ্ড এবং এ অপরাধে সহায়তার জন্য পাঁচ বছরের দণ্ডের বিধান রেখে ‘রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) বিল- ২০১৬’ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে গতকাল বিলটি উত্থাপন করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। পরে বিলটি এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

up-arrow