Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:৪০
গুলিস্তানে হকার ব্যবসায়ী সংঘর্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলিস্তানে গতকাল বিকালে ফুটপাথের হকারদের সঙ্গে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িতে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইফতারের আগে এই সংঘর্ষের কারণে কর্মব্যস্ত ওই এলাকায় ঘরমুখো মানুষকে গাড়ি না পেয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ওই এলাকায় গাড়ি চলাচল আড়াই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে পুলিশের সহায়তায় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গুলিস্তান এলাকার রাস্তা ও ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ করেন। দখলমুক্ত ফুটপাথ দেখতে গতকাল ওই এলাকায় গিয়েছিলেন মেয়র। এ সময় তিনি বলেন, একে একে সব ফুটপাথ দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা হবে। বেলা ৩টায় মেয়র চলে যাওয়ার পরপরই ঢাকা ট্রেড সেন্টারের দোকান মালিক ও ফ্লাইওভারের নিচে ফুটপাথে বসা হকারদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।

তখন বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে গুলিস্তান, নবাবপুর এবং ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গুলিস্তানে আসাদ পুলিশ বক্স থেকে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীগামী বাসও চলছিল না। বিকাল পৌনে ৬টায় সংঘর্ষ থামার পর গাড়ি চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক বিন রশিদ বলেন, ফুটপাথে দোকান বসানো নিয়ে মার্কেটের দোকান মালিক এবং হকারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এ কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি তত্পরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংঘর্ষের জন্য ব্যবসায়ী ও হকার দুপক্ষই একে অন্যকে দায়ী করেছে।

ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, মার্কেট কমিটির লোকজন ফুটপাথের দোকানদারদের চলে যেতে বলে। কিন্তু তারা না গিয়ে কমিটির লোকদের মারধর শুরু করে। তখন ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে হকারদের ওপর চড়াও হয়।

ঢাকা ট্রেড সেন্টার (দক্ষিণ) দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি আসলাম হোসেন বলেন, হকাররা দীর্ঘদিন জোর করে আমাদের মার্কেটের বারান্দা এবং সামনের ফুটপাথ দখল করে রেখেছে। তাদের বার বার জায়গা খালি করতে বলা হয়েছিল। বুধবার তাদের বৃহস্পতিবার ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তারা সরেনি। হকারদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে কমিটির সদস্যরা গেলে তারা ব্যবসায়ীদের ওপর আক্রমণ করে বলে তার অভিযোগ।

অন্যদিকে কবির হোসেন নামের এক হকার বলেন, সরকার রাস্তা থেকে চলে আসতে বলেছে, আমরা চলে আসছি। কিন্তু মার্কেটের দোকানদাররা আমাদের ফুটপাথেও বসতে দিচ্ছে না। তারা দলবল নিয়ে এসে দোকানপাট ভাঙচুর করেছে, মালামাল লুটপাট করেছে। আরেক হকার মো. সজীব মিয়া বলেন, আমার ৩৮ হাজার টাকার মালামাল দোকানদাররা নিয়ে গেছে। পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছে, কিছুই বলেনি। সজীব বলেন, এই এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার হকার প্রতিদিন মালামাল বিক্রি করে সংসার চালান।




up-arrow