Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০৯
শ্রীমঙ্গলে সংখ্যালঘু দোকানির ফেসবুকে নিহত হওয়ার শঙ্কা
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

জানি আমারে মারব (ইংরেজিতে লেখা)। জীবন নিয়ে এই উদ্বেগের কথাটি গতকাল রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন সড়কের ব্যবসায়ী কুটুমবাড়ী রেস্টুরেন্টের মালিক রাজর্ষী ধর রাজন। গত ১২ মে তার ওই রেস্টুরেন্টের নামে ইসলামী খেলাফত মুজাহিদীন বাংলাদেশ (আইকেএমবি) ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। আইকেএমবির পাঠানো চিঠি ও খামটিও তিনি তার আইডিতে পোস্ট করেছিলেন। তবে গতকাল দুপুরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ তার ওই পোস্টটি ডিলেট (মুছে ফেলার) করার অনুরোধ করলে তিনি তার ওই পোস্টটি ডিলেট করে দেন। এদিকে গত ১৪ মে পুলিশ তার রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিঠি ও খামটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কারা ওই চিঠিটি পোস্ট করেছে তার সন্ধান বের করতে পারেনি। অমুসলিম সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের নির্দেশ শিরোনামে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী ফেলাফত প্রতিষ্ঠা করায় আপনাদের প্রতি কিছু নির্দেশ দিচ্ছি। নির্দেশগুলো মেনে না চললে অথবা ইসলামের পথে চলতে কেউ বাধাদান করলে বা করার চেষ্টা করলে এবং ইসলামের পথে না চললে আপনাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ, আমাদের সেনানিদের পদতলে আপনাদের শির লুটাবে। আমাদের নির্দেশনা আজ থেকে আপনাদের জন্য আইন’।

সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ ফটকে ‘বিছমিল্লাহির রাহমানির রহিম লেখা থাকতে হবে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাবা শরিফের ছবি স্থাপন করা বাঞ্ছনীয়। কোনো ধরনের দেবদেবি অথবা প্রাণী জাতীয় কোনো মূর্তি, ছবি/প্রতীক অথবা অশ্লীল ছবি রাখা যাবে না। থাকলে শিগগিরই সরিয়ে ফেলতে হবে, না হয় তাতে করে কোনো মুসল্লির ইমান নষ্ট হতে পারে।’ এভাবে আট দফা নির্দেশ সংগঠনটির প্যাডে দেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তার কিসের উদ্বেগ। আমরা তদন্তে দেখেছি, সে ইনটেনশনালি এটা করতেছে শ্রীমঙ্গলের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য। পুলিশ হেডকোয়ার্টার এটা নিয়ে কাজ করছে, কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা তাকে নিয়ে আসতেছি। আমরা ধরে নিচ্ছি তারা নিজেরাই সাজিয়ে এটা লিখেছে।’ 




এই পাতার আরো খবর
up-arrow