Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২০ জুন, ২০১৬ ২২:৪২
সাত খুন মামলায় ৩ জনের সাক্ষ্য
গাড়িতে ইটভর্তি বস্তা তুলতে দেখা গেছে
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলায় র‍্যাব-১১-এর তৎকালীন তিনজন কর্মকর্তা গতকাল আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্য দেন র‍্যাব-১১-এর নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক ডিএডি (প্রশাসন) আতিয়ার রহমান (বর্তমানে ময়মনসিংহ সেনা নিবাসে কর্মরত), র‍্যাব-১১-এর আদমজীর প্রধান কার্যালয়ের ডিএডি (প্রশাসন) সেলিম খান (বর্তমানে র‍্যাব-১ উত্তরায় কর্মরত) এবং একই কার্যালয়ের সাবেক হাবিলদার আবদুস সাত্তার (বর্তমানে রাজশাহীতে অবস্থিত র‍্যাব-৫ এর ডিএডি) সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে সেলিম খান ও আবদুস সাত্তার বলেছেন, তারা গাড়িতে ইটভর্তি বস্তা তুলতে দেখেছেন। আতিয়ার রহমান আদালতে বলেন, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার এম এম রানা স্যারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন কর্পোরাল মোখলেছ। এরপর তিনি একটি সিলভার রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস নিয়ে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যান। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলএস সামাদ আমার সরকারি মোবাইলে ফোন করে বলেন, রানা স্যার ট্রলার নিয়ে কাঁচপুর ব্রিজের দিকে টহলে যেতে বলেছেন। আমি তাকে বলি, স্যার যেভাবে বলেছে আপনি সেভাবে ডিউটি করেন।

 

সেলিম খান তার সাক্ষ্যে বলেন, ২৭ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিলদার এমদাদ হোসেন ও ল্যান্স নায়েক বিল্লাল হোসেন ক্যাম্পে ফিরে এসে মেজর আরিফের নির্দেশে বস্তায় ইটভরে তা প্রস্তুত করতে শুরু করেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টা দিকে হাবিলদার এমদাদুল হক, ল্যান্স নায়েক বিল্লাল হোসেন, এএসআই বজলুর রহমান, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, সৈনিক তাজুল ইসলাম এবং হাবিলদার নাসির উদ্দিন (চালক) একটি সাদা রঙের মিতশুবিশি মাইক্রোবাসে করে ইটভর্তি বস্তা ও রশি নিয়ে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর আমি রুল কল, ভিপি কন্ট্রোল এবং অফিসের যাবতীয় কাজকর্ম শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্রামে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সিভিল টিম ক্যাম্পে প্রবেশ করেনি। পরদিন সকালে জানতে পারি ওই সিভিল টিম রাত ২টার দিকে ক্যাম্পে ফেরত আসে। কিন্তু মেজর আরিফ হোসেন সেদিন ক্যাম্প ফেরেন নাই। পরদিন ২৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে মেজর আরিফ ক্যাম্পে আসেন।

আবদুর সাত্তার তার সাক্ষ্যে বলেন, ২৭ এপ্রিল রাত ৮টায় রোল কলের সময় হাবিলদার এমদাদ, ল্যান্স নায়েক বেলাল, সার্জেন্ট এনামুল হক, সৈনিক তাজুল ইসলাম ও এএসআই বজলুকে ক্যাম্পের উত্তর পাশে টিনশেড ঘরের মধ্যে ইটের বস্তা তৈরি করতে দেখি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইটভর্তি বস্তা সাদা রঙের নম্বরবিহীন একটি মাইক্রোবাসে তুলতে দেখি। গাড়িটির চালক ছিল হাবিলদার নাসির। রাত ১০টার দিকে ২টি টহল পার্টি ক্যাম্পে ফেরত আসে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে টহল পার্টি ২টি বের হয়ে যায়। ওই সময় টহল পার্টির সঙ্গে ইটের বস্তা ভর্তি মাইক্রোবাসটিকেও বের হয়ে যেতে দেখি। ওই দিন রাত ২টার দিকে আমার কাছে থাকা সরকারি মোবাইল ফোনে (০১৭৭৭৭১১১৭৮) একটি রিং আসে। ফোন রিসিভ করলে আমাকে বলা হয় মেজর আরিফ স্যারের গাড়িটি কন্ট্রোল রুমে দিকে পাঠিয়ে দাও। আমি চালক দেলোয়ারকে দিয়ে স্যারের জিপ গাড়িটি কন্ট্রোল রুমের দিকে পাঠিয়ে দিই।

নারায়ণগঞ্জের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, গতকাল যারা সাক্ষ্য দেন তারা কাঠগড়ায় থাকা মেজর আরিফ হোসেন এবং লে. কমান্ডার এম এম রানাকে শনাক্ত করেছেন।




up-arrow