Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৫১
নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলায় দুই র‌্যাব সদস্যের সাক্ষ্য
আরিফ স্যারের নির্দেশে প্রাইভেট কারটি জয়দেবপুরে ফেলে আসি
নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের মামলায় আরও দুই র‌্যাব সদস্য আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন র‌্যাব-১১-এর নায়েক নাজিম উদ্দিন ও সৈনিক মিলন হোসেন।

 গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।  এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় ২৩ আসামি উপস্থিত ছিলেন।  শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আগামী ১১ জুলাই। আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে হাবিলদার নাজিম উদ্দিন আদালতকে বলেন, ‘সাতজনকে অপহরণের সময় আমি মেজর আরিফ স্যারের গাড়িতে ছিলাম। অপহরণের পর আরিফ স্যারের নির্দেশে আমি সাদা রঙের প্রাইভেট কারটি ডেমরা হয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে বাস ও সিএনজিযোগে রাত ১০টায় ক্যাম্পে ফিরে আসি। ’ অন্য সাক্ষী সৈনিক মিলন হোসেন বলেন, ‘২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় একটি ব্লু রঙের মাইক্রোবাসে মেজর আরিফ স্যার ও তার লোকজন সাদা পোশাকে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যান। ওইদিন বিকাল ৩টায় হাবিলদার এমদাদ ও ল্যান্স নায়েক বেলাল ক্যাম্পে ফিরে আসেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ব্যারাকের পেছন দিকের ফাঁকা জায়গায় হাবিলদার এমদাদ ও ল্যান্স নায়েক বেলালকে রশি পাকাতে দেখি। সন্ধ্যা ৭টায় রোল কলের সময় হাবিলদার এমদাদ ও ল্যান্স নায়েক বেলাল হাজির হননি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমি অফিসের কাজ শেষ করে ব্যারাকে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ’ নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আজ (সোমবার) র‌্যাব-১১-এর সাবেক দুই সদস্য আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য প্রদানের তারিখ ধার্য করেছেন ১১ জুলাই।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাসহ সাতজনকে অপহরণ করে র‌্যাব। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১ মে আরও একজনের লাশ একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলাম ও তার চার সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ৩৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ২৩ জন। এখনো পলাতক আছেন ১২ জন।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow