Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৮
সন্তানদের সঙ্গেই দিন কাটছে এসপি বাবুলের
আলী আজম
সন্তানদের সঙ্গেই দিন কাটছে এসপি বাবুলের

পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার এখন সন্তানদের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। দুই সন্তান আক্তার মাহমুদা মাহির (৮) ও তাবাসসুম তাজমিন টাপুরকে (৫) তিনি সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন। তাদের খেলার সাথী হয়ে পাশে থাকছেন। মা মাহমুদা আক্তার মিতুকে হারানোর বেদনা যেন তারা অনুভব করতে না পারে- সেজন্য বাবুলের এই নিরলস প্রচেষ্টা। বাবুল নিজের কষ্ট কাউকে বুঝতে দিচ্ছেন না। প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে তেমন কথা বলছেন না। দিনরাত বাসায়ই থাকছেন। গণমাধ্যম কর্মীরা গেলেও তাদের সঙ্গে দেখা করছেন না। গতকাল দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও ভুইয়াপাড়া এলাকায় এসপি বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যরা এসব কথা জানান। বাবুল আক্তারের শ্যালিকা ডা. শায়লা মোশাররফ বলেন, টাপুর সবার সঙ্গে মিশলেও মাহির বাবা বাবুলের সান্নিধ্যে বেশি থাকছে। দুই সন্তানই সারা দিন বাবার সঙ্গে খেলায় মত্ত থাকছে। বাবার সঙ্গে ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে। চট্টগ্রামের এক শিক্ষিকা ফোন করলে টাপুর তাকে জানায়, ম্যাডাম আমাকে আর মা পড়তে বলবে না। আমি মনে হয় মাকে রক্ষা করতে পারলাম না। বাঁচাতে পারলাম না। মাহির ঢুকরে ঢুকরে কাঁদলেও কাউকে বুঝতে দেয় না। দুই সন্তানকে সামলাতে তাদের অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে।

ডা. শায়লা আরও বলেন, মাহির ও টাপুর মানসিকভাবে সুস্থ আছে কিনা- এজন্য কাউন্সিলিং করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, তাদের কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে তারা দুজনই ভালো আছে। সকালে তাদের পছন্দের খাবার চা-পরাটা দেওয়া হচ্ছে। দুপুরে ও রাতে মুরগির মাংস, চিংড়ি মাছ ও ভাত খাচ্ছে। মাঝে মধ্যে তাদেরকে নিয়ে বনশ্রীতে চাচা শহিদুল ইসলামের বাসায় যাওয়া হচ্ছে। তারা টেলিভিশনে কার্টুন দেখতে ও মোবাইলে গেমস খেলতে ভালোবাসে। মায়ের শূন্যতা পূরণে তাদের পছন্দের খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাদের হাসিখুশি রাখতে সর্বদা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, এসপি বাবুল আক্তার প্রয়োজন ছাড়া কথা বলছেন না। বিশেষ করে পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকে সারা দিন বাসায়ই থাকছেন। দুই সন্তানের লেখাপড়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন বিকালে তিনি দোতলা বাড়ির ছাদে দুই সন্তানকে নিয়ে খেলতে যান। সেখানে টাপুর সাইকেল এবং মাহির বাবার সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠছে।

up-arrow