Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৯
ঝিনাইদহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই শিবির নেতা
প্রতিদিন ডেস্ক

ঝিনাইদহ সদরের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গতকাল ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আনিসুর রহমান ও শহীদ আল মাহমুদ নিহত হয়েছেন। এ সময় ১টি শুটারগান, ২ রাউন্ড গুলি, ৬টি হাঁসুয়া ও ৫টি বোমা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়া এদিন কক্সবাজারে ইসমাইল (৩০) নামে আরেক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ     প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে পুলিশে সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বদনপুর গ্রামের রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে শহীদ আল মাহমুদ (২৫)। অন্যজন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া ভাগপাড়া ছাবদার হোসেনের ছেলে আনিসুর রহমান। ঘটনার ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ভোরে পুলিশ জানতে পারে— তেঁতুলবাড়িয়ায় একদল দুর্বৃত্ত নাশকতা সৃষ্টির জন্য অবস্থান করছে। এ সময় পুলিশ ওই গ্রামের উত্তর মাঠে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে ১টি শুটারগান, ২ রাউন্ড গুলি, ৬টি হাঁসুয়া ও ৫টি বোমা উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধের সময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। এ ব্যাপারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নিহত দুজন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিবির নেতা। পুলিশ তাদের ১৫ দিন আগে আটক করে নিয়ে গিয়েছিল। নিহত মাহমুদের বড় ভাই আবদুর রহিম দাবি করেন, তার ভাইকে ১৩ জুন রাত ১২টার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ৮-১০ জন সাদা পোশাকের লোক তুলে নিয়ে যায়। তবে থানায় যোগাযোগ করলে তারা মাহমুদকে আটকের কথা অস্বীকার করেন। এরপর ১৮ জুন নিখোঁজ ভাইকে উদ্ধারের দাবিতে পরিবারের লোকজন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সময় পরিবারের পক্ষ বলা হয়, মাহমুদ কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন।

 প্রসঙ্গত, বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত উল্লেখ করেন, ১৩ জুন ঝিনাইদহ থেকে শিবির নেতা শহীদ আল মাহমুদকে ও ১৬ জুন রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ৯ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাসার ছয় তলা থেকে ছাত্রশিবির ঝিনাইদহ শহর শাখার সাবেক সভাপতি ইবনুল ইসলাম পারভেজ, একই শাখার ছাত্রকল্যাণ ও আইন সম্পাদক এনামুল হক, ঝিনাইদহ পলিটেকনিকের সাবেক ছাত্র আনিসুর রহমানকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

তাদের সন্ধানের দাবিতে সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান করা হয়। ২১ জুন স্বীকারোক্তির নাটক সাজিয়ে পুলিশ শিবির নেতা এনামুলকে গোপনে আদালতে হাজির করে। কিন্তু গ্রেফতারের পর ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও বাকি তিন নেতাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল ভোরে পুলিশ কক্সবাজার জেলখানার পেছনে সিকদারঘোনা এলাকা থেকে ইসমাইলের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইসমাইল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যা, ভূমি দখলসহ ডজনখানেক মামলা রয়েছে। তিনি রুমালিয়ারছড়া সমিতি বাজার এলাকার দিল মোহাম্মদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, ইসমাইল পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছেন। অন্য সূত্রগুলো জানায়, দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলির সময় ইসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কোনো তথ্য জানায়নি। কক্সবাজার সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার এসআই আবদুর রহিম জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কীভাবে ইসমাইল মারা গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow