Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৯
জনগণ রুখে দাঁড়ালে এ দেশে জঙ্গির স্থান হবে না : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনগণকে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণ রুখে দাঁড়ালে এ দেশে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান হবে না। জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুললে এটা থামবে। গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। শুক্রবার রাতে গুলশানে রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যায়, মানুষ যখন আনন্দে উচ্ছ্বাস করে তখন আমাদের ওপর আঘাত নেমে আসে। ঠিক এশার নামাজের আজানের পর কিছু সন্ত্রাসী গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকে যারা সেখানে ছিল তাদের জিম্মি করে ফেলে। যখন ঘটনা ঘটে সঙ্গে সঙ্গে টহল পুলিশ সেখানে চলে যায়, পরে থানা পুলিশও চলে আসে। যখনই তারা অ্যাকশন নিতে যায়, তখন সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়, দুজন পুলিশ অফিসার মারা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির জন্য সন্ত্রাসীরা সেখানে আটকা পড়ে। কোনো জঙ্গি পালিয়ে যেতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানে রেস্তোরাঁয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ছয় সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। তাদের একজন ধরা পড়েছে। কমান্ডো অপারেশন সফল হয়েছে। যারা জিম্মি ছিল, তাদের ১৩ জনকে বাঁচাতে পেরেছি। বাকি কয়েকজনকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। তিনি বলেন, জনগণ রুখে দাঁড়ালে এ দেশে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান হবে না। জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুললে এটা থামবে। ঠিক যেমনটি মাদারীপুরে হয়েছে। একজন অধ্যাপককে হত্যা চেষ্টা জনগণ ঠেকিয়ে দিয়ে সন্ত্রাসীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এভাবেই সবাকে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, যারা এভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসী হয়ে ঢুকল, মানুষকে হত্যা করল; তারা নিজেরাও বাঁচতে পারল না। আর তাদের পরিবার কি বা পেল? কেন যে মানুষ এ ধরনের সন্ত্রাসের পথে যায়, সেটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। আমি এ ধরনের দুষ্কৃতিকারীদের আহ্বান জানাই, তারা যেন সন্ত্রাসীর পথ পরিহার করে। এ ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন হতে হবে। দেশের মানুষ যদি সবাই সচেতন হয়, তবে বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হবে না।

জঙ্গিদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে সংশয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না, রমজান মাসে একজন মুসলমান যখন নামাজ পড়বে, এশার আজান দিচ্ছে। সে যাবে নামাজ পড়তে। আজান উপেক্ষা করে এরা গেল মানুষ খুন করতে। তাহলে, কেমন মুসলমান তারা? তারা নামাজ না পড়ে মানুষ খুন করতে চলে গেল! আর, সেখানে তারা নিজেরাও বাঁচতে পারল না। তাদের মরতে হলো। তাদের পরিবার, তারাই বা কি করল?

শেখ হাসিনা জানান, যখনই ঘটনা ঘটলো, তখন থেকে আমরা বসে থাকিনি। সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। অল্প সময়ের মধ্যে অপারেশন চালানোর ফলেই আমরা সন্ত্রাসীদের খতম করতে সক্ষম হয়েছি। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। এর আগে, তারা টুকটাক একটা দুটো মানুষ হত্যা করে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, রাতেই পরিস্থিতি নিয়ে গণভবনে বৈঠক করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনী প্রধানও ছিলেন। সিলেট থেকে প্রথম প্যারা কমান্ডকে আনা হয়। সাভার ও ক্যান্টেনমেন্ট থেকে কমান্ডো নিয়ে আসা হয়। ভোর চারটা পর্যন্ত বসে কিভাবে অপারেশন চালানো হবে, সেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

লাইভ সম্প্রচারে সতর্ক হোন : বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অপারেশনগুলো বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি দেখানো হচ্ছিল। এতে ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীরাও তাদের পরিকল্পনা বিষয়ে জেনে যাচ্ছে এবং সে অনুযায়ী সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরে টিভির লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করার কারণেই আমরা অপারেশন সাকসেসফুল করতে পেরেছি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকায় ৩০ জন মানুষ মেরে ফেলা হলো। একটা লাশের ছবি দেখানো দেখায়নি কোনো মিডিয়া, রক্তাক্ত কোনো ছবি দেখানো হয়নি। অথচ আমরা মিডিয়াতে লাশের ছবি দেখাই, রক্তাক্ত ছবি দেখাই। তিনি বলেন, এ ধরনের লাইভ সম্প্রচারের প্রভাব শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ওপর পড়তে পারে। এসব প্রাইভেট টিভি চ্যানেল আমার হাতেই দেওয়া। আমি দিতে যেমন পারি, নিতেও পারি। তাই টেলিভিশনের যারা মালিক, তাদের অনুরোধ করব, এ ধরনের লাইভ সম্প্রচার থেকে বিরত থাকতে।

চার লেন সড়ক দুটি অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃদ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow