Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০৩:০৫
সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ব্যবসায়ীদের সমর্থন
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলা এবং ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। তারা দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী ও কঠোর উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

দেশের ব্যবসায়ী সমাজ এই ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় নিহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।   ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন—এফবিসিসিআই মহাসচিব মীর শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে গতকাল এ সব কথা বলা হয়। , ব্যবসায়ী সমাজের বিশ্বাস, এই ঘৃণ্য ঘটনার মূলে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্যও বেসরকারি খাত উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।

ওই বিবৃতিতে দাতাদের মধ্যে রয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতিদের মধ্যে আছেন— সালমান এফ রহমান, মাহবুবুর রহমান, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, মীর নাসির হোসেন ও এ কে আজাদ এবং এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কঠোর পদক্ষেপ সঠিক পথে কাজ করছে বলে ব্যবসায়ী সমাজ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া সব পদক্ষেপে এফবিসিসিআইসহ দেশের সব ব্যবসায়ী সংগঠনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়ে দেশের বিত্তবান পরিবারের কোমলমতি তরুণরা যাতে বিপথগামী না হয়ে পড়ে সে ব্যাপারে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে।

ব্যবসায়ী নেতারা তাদের বিবৃতিতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সব স্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সব প্রকার জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে উদাত্ত আহ্বান জানান। ব্যবসায়ীরা তাদের অবস্থান থেকেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় অত্যন্ত সজাগ এবং সদা প্রস্তুত রয়েছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি  কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সমাজ সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের বর্তমান ধারায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে যাতে আস্থার অভাব না ঘটে এফবিসিসিআই সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং অগ্রগতির স্বার্থেই ব্যবসায়ী সম্প্রদায় যে কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ।

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সঙ্গে দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সমাধানের সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, কমান্ডো অভিযানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ যে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে সে জন্য দেশবাসীর সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও গর্বিত।

বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন— সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসাইন খালেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী, ঔষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি, ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন, ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, খুলনা চেম্বারের সভাপতি কাজী আমিনুল হক, রংপুর চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম, উইমেন চেম্বারের সভাপতি  সেলিমা আহমাদ, রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, বরিশাল চেম্বারের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, সিলেট চেম্বারের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সামস-উজ-জোহা, ঢাকা উইমেন চেম্বারের সভাপতি নাজ ফারহানা আহমেদ, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার ও ফিনিসড লেদার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন।

up-arrow