Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৩
ফারাজসহ পাঁচ মুসলিম নাগরিকের স্মৃতিতে ‘গার্ডেন অব রাইচাস’
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফারাজসহ পাঁচ মুসলিম নাগরিকের স্মৃতিতে ‘গার্ডেন অব রাইচাস’

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে ইতালীয় দূতাবাসের ভিতরে পাঁচ ন্যায়নিষ্ঠ আরব ও মুসলিম নাগরিকের স্মৃতির উদ্দেশে স্থাপিত হয়েছে ‘গার্ডেন অব রাইচাস’ (ন্যায়নিষ্ঠদের জন্য স্মৃতিউদ্যান)। এই পাঁচ ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে আছেন ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত বাংলাদেশি ফারাজ আইয়াজ হোসেন। তার নামে গত ১৫ জুলাই সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন ও একটি গাছ লাগানো হয়েছে।

মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত ব্যক্তিদের স্মৃতি রক্ষায় স্মৃতিফলক স্থাপন এবং গাছ রোপণ করে ‘গার্ডেন অব দ্য রাইচাস ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ বা গারিও নামের ইতালির মিলানভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগে সহায়তা দেয়।

আরব বিশ্বের কোনো দেশে এই প্রথম এই স্মৃতি-উদ্যান স্থাপন করল গারিও। বাংলাদেশের ফারাজের পাশাপাশি আরও যে চার ব্যক্তির স্মৃতিচিহ্ন এই উদ্যানে স্থাপন করা হয়েছে তারা হলেন তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের আন্দোলন ‘আরব-বসন্তের’ সূচনাকারী  মোহাম্মদ বুয়াজিজি, তিউনিসিয়ার বারদো জাদুঘরে সন্ত্রাসী হামলার সময় ইতালীয় পর্যটকদের উদ্ধারকারী হামাদি বেন আবদেস সালাম, তিউনিসিয়ায় নািস দখলদারির সময় নিপীড়িত ইহুদিদের জীবন রক্ষাকারী খালেদ আবদুল ওয়াহাব এবং সিরিয়ার প্রাচীন শহর পালমিরা রক্ষায় আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিহত খালেদ আল-আসাদ।

গার্ডেন অব দ্য রাইচাসের উদ্বোধন করেন গারিওর চেয়ারম্যান ও ইতালীয় লেখক-সাংবাদিক গাব্রিয়েলে নিসিম, তিউনিসিয়ান লিগ অব হিউম্যান রাইটসের প্রধান ও ২০১৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আবদেস সাত্তার বেন মুসা এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত রাইমন্দো দে কারদোনা।

তিউনিসের এই অনুষ্ঠানের জন্য ফারাজের মা সিমিন হোসেনের কাছ থেকে একটি বাণী চেয়ে পাঠান ইতালির রাষ্ট্রদূত। অনুষ্ঠানে মিলানের মেয়রের পক্ষে সিটি কাউন্সিল অব মিলানের প্রেসিডেন্ট লামবার্তো বার্তোলে গুলশান হামলায় নিহত ফারাজ আইয়াজ  হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে ফারাজের রুখে দাঁড়ানোর এই অসামান্য প্রয়াসকে তিনি শ্রদ্ধা জানান এবং অনুষ্ঠানে ফারাজের মায়ের পাঠানো বাণী পাঠ করেন। তিউনিসে প্রথমে চারজনের নামে গার্ডেন অব রাইচাস স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু গারিওর ওয়েবসাইটে বলা হয়, ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ফারাজ হোসেনের নাম এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow