Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৪
নববধূসহ বাড়ি এলেন ‘জঙ্গি তালিকা’র মুন্না
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
নববধূসহ বাড়ি এলেন ‘জঙ্গি তালিকা’র মুন্না
জঙ্গি তালিকায় পোস্টারে নিজের ছবি দেখছেন মুন্না —বাংলাদেশ প্রতিদিন

জঙ্গি তত্পরতায় জড়িত বলে যশোর পুলিশের তালিকার প্রথম সন্দেহভাজন কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না নববধূ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গতকাল ভোরে তিনি যখন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাড়িতে ফেরেন, তার সঙ্গে শ্বশুরপক্ষের তিন আত্মীয়ও ছিলেন।

মুন্না শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার চা-দোকানি আবদুস সোবহানের ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন মুন্না। রবিবার যশোর পুলিশ জঙ্গি তত্পরতায় জড়িত যে পাঁচজনের ছবি ও নাম দিয়ে পোস্টার বের করে, সেখানেও মুন্নার ছবি ও নাম রয়েছে। বাড়িতে ফেরার পর মুন্না বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে দাবি করেন, তিনি জঙ্গি নন। বাড়িতে এসে শুনেছেন যে, পুলিশ তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নাম-ছবিসহ পোস্টার ছেপেছে। যশোর পুলিশের ছাপানো জঙ্গি তালিকা সংবলিত পোস্টারে নিজের নাম ও ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুন্না। তিনি বলেন, ‘মায়ের ওপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিলাম। তিন বছর ঢাকায় ছিলাম। প্রথমে একটি প্লাস্টিক কারখানায় ও পরে একটি ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করি। বিয়েও করেছি। আমি কাজ করে খাই। কোনো ধরনের জঙ্গি তত্পরতার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ’ মুন্নার বাবা সোবহান বলেন, আইপিএল জুয়ায় জড়িয়ে পড়ায় মায়ের বকুনি খেয়ে মুন্না বাড়ি ছাড়ে। পরে এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। যশোর কোতোয়ালি থানার একজন দারোগা বিষয়টি তদন্তও করেন। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, মুন্না জঙ্গি নয়। কিন্তু সরকারদলীয় এক প্রভাবশালীর কথামতো থানার এক কর্তা তাকে জঙ্গি হিসেবে সাব্যস্ত করেন। এরপর আমার ছেলেকে জঙ্গি বলতে শুরু করে পুলিশ। মুন্না দাবি করেন, বাড়ি ছাড়ার পর তিনি ঢাকার ইসলামবাগ এসি মসজিদ গলির জনৈক ডিশ-মাহমুদের প্লাস্টিক কারখানায় ও পরে জিঞ্জিরা খেজুরবাগ বালুরচর এলাকায় রফিকের ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করেন। সেখানে আলাপ হয় বাংলাবাজারে বই সাপ্লায়ার মনির খানের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে। কিছু দিন প্রেম করার পর মাস ছয়েক আগে তাদের বিয়ে হয়। মুন্নার বাবা বলেন, আমার ছেলে দেশদ্রোহী হলে তার সাজা হোক। কিন্তু বিনা দোষে যেন শাস্তির শিকার না হয়। তিনি বলেন, মুন্না ধর্মকর্ম খুব একটা করত না। শুক্রবার দিন বকাঝকা করে তাকে জুমার নামাজ পড়তে নিয়ে যেতাম। এদিকে নববধূসহ মুন্নার ফেরার খবরে গতকাল সকাল থেকেই সোবহানের বাড়িতে আশপাশের লোকজন ভিড় করতে শুরু করে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মা কমলা বেগম দীর্ঘদিন পর ছেলেকে কাছে পেয়ে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন। আর বাবা আবদুস সোবহান এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে যাবেন বলে।   মুন্নার ফেরার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোরের পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, ছেলে জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়ে পড়ল কিনা এ ব্যাপারে মুন্নার পরিবারের পক্ষ থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। এখন মুন্না ফিরে এসেছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। যদি সত্যিই সে জঙ্গি তত্পরতায় না জড়িয়ে থাকে, তাহলে তো ভালো। আর যদি জড়িয়েও থাকে, তাহলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তার কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow