Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০২:৩৩
ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের নীল নকশার সব তথ্য হাতে পেয়েছি
—————————— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলশানে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সর্বশেষ গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার সব তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা তাভেলা সিজার থেকে শুরু করে সবগুলো হত্যাকাণ্ড কেন ঘটিয়েছে, কীভাবে ঘটিয়েছে তা জানতে পেরেছি। ষড়যন্ত্রকারীদের নীল নকশা আমাদের কাছে এসে গেছে। এগুলোর পেছনে কারা জড়িত আছে আমরা সবকিছু জানতে পেরেছি। ’

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক প্রমুখ।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে এটিও তারই একটা ধারাবাহিকতা, অংশ। যতগুলো প্রমাণ আমাদের কাছে আসছে, সবগুলো একই সুতোয় গাঁথা। যে যা ষড়যন্ত্রই করুক, তাদের নীল নকশা আমাদের কাছে এসে গেছে। ’ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের সামনে নতুন করে একটি চ্যালেঞ্জ আসছে। আপনারা দেখেছেন, গুলশান ট্র্যাজেডির পরপরই শোলাকিয়া ট্র্যাজেডি ঘটেছে। এ দেশে যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সবগুলো হত্যাকাণ্ড আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী আইডেন্টিফাই করেছে। অনেক হত্যাকাণ্ডের জন্য আমরা কয়েক শ অপরাধীকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছি। ’

তিনি বলেন, ‘যে ঘটনা গুলশানে ঘটল সে ঘটনায় আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, কিছু তরুণ, যারা সমাজে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, এরা একটা ভিন্ন মোটিভ নিয়ে এসেছে। আমরা এগুলো উদ্ঘাটন করেছি। এগুলো অমানুষের কাজ, অধর্মের কাজ। কোনো ধর্মে মানুষ হত্যাকে সমর্থন দেয়নি। এসব ষড়যন্ত্রকারীকে আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আজ পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ। যেই এই ষড়যন্ত্র করুক, কিছুই লাভ হবে না, শুধু বিভ্রান্ত করা ছাড়া। ’

সভায় মাহবুব-উল আলম হানিফ বিএনপির আইনজীবীদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘তারেক কি মামুনের বোনজামাই? যে উনি (তারেক) মামুনের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে? বাংলাদেশের মানুষ কি বোকা? একজনের কার্ড দিয়ে টাকা খরচ করছে আবার বলছে তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার সুযোগ নেই। ’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘তারেক রহমানের যে রায় হয়েছে, আপনারা আইনি লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করুন। এই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হয়েছে। ’ বাংলাদেশে সন্ত্রাস-নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠন জড়িত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এর পেছনে মূলত দুটি রাজনৈতিক দল জড়িত। একটি হচ্ছে বিএনপি, আরেকটি জামায়াত। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা ধরা পড়েছে, যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, তারা বিএনপি-জামায়াত। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, সবগুলো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা জড়িত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow