Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৩:০৫
বড় হচ্ছে আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি
‘মীর কাসেমের ফাঁসিতে পাকিস্তানের মর্মাহত হওয়াই স্বাভাবিক’
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ফাঁসির পর পাকিস্তানের মর্মাহত হওয়ার প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এর জন্য পাকিস্তানের মর্মাহত হওয়াই স্বাভাবিক। এর আগেও অন্য যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকরের সময় এমন করেছিল।

এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ন্যক্কারজনক। গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে গঠনতন্ত্র উপ-কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের এমন প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আরও বেশি স্পষ্ট হয় যে, এরা যুদ্ধাপরাধ করেছেন এবং তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে বাংলাদেশি নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করেছেন। এ সময় দলের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যাদের ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, তাদের এখনো নিজেদের লোক মনে করে পাকিস্তান। তাই নিজেদের লোক সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দেখায় দেশটি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আকার বাড়ছে : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আকার বাড়ছে। ৭৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী সংসদ ৮১ হতে পারে। আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের জাতীয় কাউন্সিলে এই সুপারিশ করবে গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটি। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদের গতকালের বৈঠকে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। বৈঠকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ বর্তমানের ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ জন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ৭ জন থেকে বৃদ্ধি করে ১০ জন করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটির আকার বৃদ্ধির জন্য এক-দুটি সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি ও সদস্য পদ বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত সুপারিশগুলোর কোনোটিই চূড়ান্ত নয়।   

গঠনতন্ত্র উপ-কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, মুহম্মদ ফারুক খান, আখতারুজ্জামান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম আমিন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমানে ৭টি সাংগঠনিক বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। সম্প্রতি দেশের প্রশাসনিক বিভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন বিভাগ হয়েছে ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যে কারণে নতুন এবং প্রস্তাবিত বিভাগের কথা চিন্তা করে সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা ৭ জন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার সুপারিশ করেছে গঠনতন্ত্র উপ-কমিটি। এ ছাড়া দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে তিনজন রয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাড়ানো সাপেক্ষে যুগ্ম সম্পাদক পদও ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ জন করার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদকসহ দুয়েকটি পদ সৃষ্টির বিষয়েও সুপারিশ করেন বৈঠকে উপস্থিত নেতারা।

গঠনতন্ত্র উপ-কমিটির বৈঠকের বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, গঠনতন্ত্রের পরিবর্ধন, পরিবর্তন ও সংযোজন করা হবে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের সুপারিশ দলের কার্যনির্বাহী সভায় আলোচনা হবে। সেখান থেকে সুপারিশ আকারে আগামী সম্মেলনে যাবে এবং এর চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ডেলিগেটদেরই। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির আকার বাড়ানোর সুপারিশের কথা ইঙ্গিত করে রাজ্জাক আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে; কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদ হলো দলের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এর পদের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে গণমাধ্যমেও অনেক আলোচনা হয় যে, দেশের ১৬ কোটি মানুষ আর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি মাত্র ৭৩ সদস্যের। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব সময় বলছে, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদের পরিধি ঢাউস করা হবে না।  

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি আগে ছিল না। এবার এই প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে ১৭ অথবা ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বৈঠকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow