Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৬
অধিকাংশ পোশাকশ্রমিক বেতন-বোনাস পেয়েছেন
২১টিতে সমস্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাকশ্রমিকদের ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। ঢাকার আশপাশে অবস্থিত কারখানাগুলোর শ্রমিকদের পাওনা বেতন ও উৎসবভাতা পরিশোধ করে বৃহস্পতিবারই ঈদের ছুটি দেওয়া শুরু করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

আর রাজধানী ঢাকার কারখানাগুলোতেও গতকাল ও আজ ব্যাংকসহ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে এ দুই দিনে ঢাকা ও তার আশপাশের অবশিষ্ট পোশাকশ্রমিকদের পাওনাদি মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার আশপাশে সাভার, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া ও গাজীপুরের কারখানাগুলোয় শ্রমিকদের ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। তবে বেশ কিছু কারখানা শ্রমিকদের এখনো বেতন ও ভাতা পরিশোধ করেনি। সেসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই দু-তিন দিন ধরে বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। আর আজ যদি শ্রমিকরা তাদের পাওনা বুঝে না পান তবে এই ঈদ তাদের নিরানন্দেই কাটাতে হবে।

এবার ঈদ উপলক্ষে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের উৎসবভাতা ও ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগস্টের বেতন পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তবে গতকাল পর্যন্ত বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকদের পাওনাদি দেওয়া হয়নি বলে শ্রমিকনেতারা অভিযোগ করেন। আজও যদি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা না হয় তবে ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শ্রমিকরা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন না। আর শেষ মুহূর্তে পাওনা পরিশোধ না হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে শ্রমিকনেতারা আশঙ্কা করছেন।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, এবার ঈদে তাদের পরিদর্শন টিমের নজরদারিতে ছিল ৫২৯টি কারখানা। এর মধ্যে ২১টি কারখানায় সমস্যা তৈরির আশঙ্কা করছেন তারা। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা এর আগে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বিষয়ে বৈঠক করি তখন ধারণা ছিল, ১২ সেপ্টেম্বর ঈদ হবে। কিন্তু এখন এক দিন পিছিয়ে যাওয়ায় আমরা ব্যাংক ও পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানকে শ্রমিকদের পাওনা মেটাতে ১০ ও ১১ তারিখ প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুরোধ করেছি। এ দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকও খোলা থাকছে। সে হিসাবে আমরা শ্রমিকদের আজ ও কাল ছুটি দেওয়ার পাশাপাশি পাওনা মিটিয়ে ফেলার জন্য কারখানা মালিকদের বলেছি। আমাদের পরিদর্শক দল ৬১৪টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ের বেতন শতকরা একশ শতাংশ কারখানাই পরিশোধ করেছে। ৯০ শতাংশের বেশি কারখানা বোনাস দিয়ে দিয়েছে। আর যেসব কারখানায় আগস্টের বেতন বাকি আছে তারাও শুক্র ও শনিবার তা দিয়ে দেবে। ’ এদিকে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দিয়ে পালিয়ে যান অ্যাডন নিটওয়্যার লিমিটেডের মালিক রেজাউল করিম। বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা জুলাইয়ের হাফ ও আগস্টের ফুল বেতনের দাবিতে কারখানায় কর্মবিরতি পালন করেন। পরে সন্ধ্যায় গার্মেন্ট মালিকের সঙ্গে ভবন মালিকের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এতে মালিক আবুল হোসেন কারখানার দুটি মূল ফটক তালাবদ্ধ করে ৩০০ শ্রমিক আটকে রেখে পালিয়ে যান। রাত ৯টায় পুলিশ এসে তালা ভেঙে শ্রমিকদের উদ্ধার করে। এ ছাড়াও ঈদের আগে বৃহস্পতিবার বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে গাজীপুরের সাদাত অ্যাপারেলস ও কদমতলীর ফিনকলি অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রতিবারই ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে মালিকরা টালবাহানা করেন। এবারও ঢাকা, শ্যামপুর ও চট্টগ্রামের কয়েকটি কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow