Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১০
ডাকলে চোখ খুললেও কথা বলেনি খাদিজা
আলী আজম
ডাকলে চোখ খুললেও কথা বলেনি খাদিজা

‘খাদিজাকে নাম ধরে ডেকেছি। চোখ খুলে তাকিয়েছে। চেনার চেষ্টা করেছে হয়তো। কিন্তু চিনতে পারেনি। আমাদের দিকে অপলক তাকিয়েছিল। আবার চোখ বন্ধ করেছে। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে হাত-পা নাড়াচ্ছিল। তবে খাদিজা এখনো কথা বলতে পারেনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পরই খাদিজা কেমন যেন চমকে ওঠে, নিঃশব্দে দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে’। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন খাদিজা বেগম নার্গিসের ব্যাপারে গতকাল স্বজনরা এসব কথা বলছিলেন। খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস জানান, জীবন শঙ্কা কাটিয়ে ওঠার পর এবার খাদিজার পিছু নিয়েছে দুঃসহ স্মৃতি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রায় চেতনাহীন অবস্থায় ক্ষণে ক্ষণে আতঙ্কে কেঁপে উঠছে খাদিজা। কখনোবা নিঃশব্দে দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা ঝরছে। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তার মানসিক চিকিৎসারও প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। লাইফ সাপোর্ট থেকে কলেজছাত্রী খাদিজার মুক্তি মিলেছে ৪৮ ঘণ্টা আগে। তারও আগে কেটে গেছে তার জীবনাশঙ্কাও। কিন্তু শারীরিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মানসিক চাপ। কিছুতেই যেন খাদিজা ভুলতে পারছেন না সে দিনকার সেই ভয়াবহ স্মৃতি।

আবদুল কুদ্দুসের ধারণা, এখনো বদরুলের সেই নির্মম আচরণের কথা ভুলতে পারেনি খাদিজা। আর এ কারণেই সে হাসপাতালের বিছানাতেও আঁতকে উঠছে। খাদিজার পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য শারীরিক চিকিৎসার পর তার মানসিক চিকিৎসারও প্রয়োজন বলে জানান তার এই স্বজন। খাদিজার মামা আবদুল বাছিত বলেছেন, নাম ধরে ডাকলে চোখ খুলে তাকায় খাদিজা। চেনার চেষ্টা করেছে হয়তো কিন্তু চিনতে পারেনি। তবে মাঝে মধ্যে হাত-পা নাড়াচ্ছিল। তার হাতে চাপাতির অনেক আঘাত রয়েছে, যে কারণে ব্যথা পেলেও হাত আস্তে করে নাড়ায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, খাদিজার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ধীরে ধীরে খাদিজা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেই আশা করছি। আজ (শনিবার) থেকে অর্থোপেডিক চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে। গতকাল দুপুরে খাদিজার বুকে এক্স-রে করা হয়েছে। এক্স-রে রিপোর্ট অনুসারে তার বুকে কফ জমেছে। এ বিষয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, খাদিজার চিকিৎসার ব্যাপারে আজ সকালে চিকিৎসকদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে নিউরো সার্জারি বিভাগ ও অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকরা থাকবেন। খাদিজার হাতে ধারালো চাপাতির কয়েকটি আঘাত রয়েছে। যে কারণে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হবে। আজ সকালে খাদিজাকে দেখার পর এ বিষয়ে বৈঠক করবেন চিকিৎসকরা। সেখানেই অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার থেকে লাইফ সাপোর্ট ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে খাদিজাকে। হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের অধ্যাপক ডা. মির্জা নাজিমউদ্দিন বলেন, খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ধীরে ধীরে। তার হাতের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে শনিবার চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। গত শনিবার স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা খাদিজা প্রথমে চোখ খোলেন। ওই দিন থেকে তিনি ডান হাত ও ডান পা নাড়াচ্ছেন।

গত ৩ অক্টোবর বিকালে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খাদিজাকে গুরুতর জখম করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। কলেজ শিক্ষার্থীরা বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ভোরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওইদিন দুপুরে স্কয়ার হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসকরা। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন খাদিজা।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে সিলেট শাহপরাণ থানায় বদরুল আলমকে আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। ছাত্রলীগ ক্যাডার বদরুল খাদিজার ওপর হামলার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow