Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১৭
জবি ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ১৫, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দুপুরে আনিসুর রহমান শিশির (বহিষ্কৃত) ও জহির রায়হান আগুন পক্ষের সঙ্গে মাদারীপুর গ্রুপের কামরুল ইসলাম ও শামীমের পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার আনিসুর রহমান শিশির ও মাদারীপুর গ্রুপের ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক স্বাধীন আহম্মেদ বাদশার মধ্যে মারামারির জের ধরে গতকাল সকাল থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আনিসুর রহমান শিশির (বহিষ্কৃত) ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহির রায়হান আগুনের (সাময়িক বহিষ্কৃত) নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও শামীম রেজার কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও শামীমের নেতৃত্বে আনিসুর রহমান শিশির ও জহির রায়হান আগুন গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া করে। এ অবস্থায় তারা আত্মরক্ষার্থে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও বাইরে অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতী পূজার জন্য রাখা কিছু সরঞ্জাম নষ্ট হয় এবং কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতরা হলেন ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক স্বাধীন আহম্মেদ বাদশা (৭ম ব্যাচ), নবীন (৭ম ব্যাচ), হাসান (১২তম ব্যাচ), আক্তার (৮ম ব্যাচ), জামাল (৯ম ব্যাচ), মেহেদী (৭ম ব্যাচ), নাদিম (৭ম ব্যাচ), আশিক আবির (১১তম ব্যাচ), পাল কুমার হৃদয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার, সুমনা হাসপাতাল ও মিডফোর্ট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করে। সংঘর্ষের সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে ছোটাছুটি করে। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা বাগেরহাট আওয়ামী লীগের একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা পদ-প্রত্যাশী নেতাদের ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানিয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতাদের ঝামেলা হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপরেও যারা বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোতোয়ালি থানার এডিসি শাহেন শাহ্ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এখনো ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

up-arrow