Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০২:৪৩
অর্থ পাচার বন্ধে পদক্ষেপ চায় এফবিসিসিআই
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) আরও শক্তিশালী করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। তিনি অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে যাতে না চলে যায়, সে বিষয়ে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে বলেছেন, ‘অর্থ পাচার রোধ হলে তা দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। দেশে অপ্রদর্শিত অর্থের পরিমাণ কত তা আমরা জানি না। ’ গতকাল মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন—এফবিসিসিআই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সহসভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, শিল্প খাতের উন্নয়নের দৃশ্যমান ফল নেই। সব ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার কমিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট বা ৯ শতাংশ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে নন-পারফরমিং লোন ক্রমেই বাড়ছে। গত বছর জুন পর্যন্ত দেশে নন-পারফরমিং লোনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ অর্থের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় বিনিয়োগে গতি সঞ্চার করা সম্ভব হবে না। ব্যাংকের নন-পারফরমিং লোন রেশিও কমানোর লক্ষ্যে মুদ্রানীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন ছিল।

নতুন শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী কিছু প্রস্তাব নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে এফবিসিসিআই। এনবিআর থেকে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটি ১০টি সভা করে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনার আলোকে নতুন আইন বিষয়ে এনবিআর থেকে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো ফলাফল আমরা পাইনি। সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি। ’

বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই বলেছে, ভারতের বাজারে রপ্তানি করা বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর দেশটির সরকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতি টন ১৯ থেকে ৩৫১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করেছে। ভারতে মোট ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করায় প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে না। ফলে ভারতে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, পাটপণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত ও সংকটাপন্ন হবে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

up-arrow