Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪১
কিশোরগঞ্জে ক্ষুব্ধ মানুষের প্রশ্ন
যুদ্ধাপরাধীর স্বজনের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি কেন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির স্বজনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির লোকদের কেন হাজির হতে হয়েছিল? কিশোরগঞ্জের ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত প্রগতিশীল মানুষ জোরালোভাবে প্রশ্নটি তুলেছেন। অনুষ্ঠানটি হয়েছে গত বুধবার। এর আয়োজক এটিএম নিজাম; তিনি যুগান্তর ও যমুনা টিভির কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি। তার বড় দুই ভাই ক্যাপ্টেন (অব.) এটিএম নাসির উদ্দিন (পলাতক) ও অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন (আটক)। একাত্তরে এই দুই ব্যক্তির অপকর্মের সাক্ষী হয়ে আছে এলাকার অগণিত মানুষ। যুদ্ধাপরাধী পরিবার বলে এই পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মহলের প্রায় সবাই এড়িয়ে চলেন।

গত বুধবার যুগান্তরের ১৭ বছরপূর্তি উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আসাদউল্লাহ ও কিশোরগঞ্জ রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক লুত্ফুর রহমান চৌধুরী হেলাল অংশ নেন। যুদ্ধাপরাধীর ছোট ভাই নিজামকে নিয়ে তারা শহরে শোভাযাত্রাও করেন।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আসাদউল্লাহ বলেন, ‘আমি তো এতটা বুঝতে পারিনি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লু ভাই আমাকে নিয়ে গেছেন। অনুষ্ঠানে গিয়ে পিপি শাহ আজিজ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিলকিস বেগমকেও পেয়েছি’। তিনি জানান, অন্য কোনো সাংবাদিককে অনুষ্ঠানে দেখেননি। অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে আমি অনুষ্ঠানে নিয়ে যাইনি। আমার আগেই তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন’। জিল্লুর বলেন, ‘যুগান্তর নিজামকে নিয়োগ দিয়েছে। আমি যুগান্তরের অনুষ্ঠানে গিয়েছি। তাছাড়া সাংবাদিকদের প্রায় সব অনুষ্ঠানেই আমি অংশ নিয়ে থাকি’।

যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটির সভাপতি রেজাউল হাবিব রেজা বলেন, সরকার যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে যুদ্ধাপরাধীর স্বজনদের কোনো অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবিদার কারও অংশগ্রহণ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, মুখে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করে যারা যুদ্ধাপরাধীর স্বজনদের অনুষ্ঠানে যান, প্রকৃতপক্ষে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটুকু ধারণ করেন?

কিশোরগঞ্জ জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন বলেন, তাদের ফোরাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের একটি সংগঠন। যেখানে সংগঠনে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের স্বজনদের কোন ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, আমরা তাদের যেকোনো অনুষ্ঠান বয়কট করি। তাদের স্বজনদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কেউ অংশ নিতে পারে না। যারা অংশ নিয়েছেন তারা কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow