Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৬
পরীক্ষা দেওয়া হলো না সাকিবের
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছিল সাকিবুল ইসলাম। গতকাল ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল।

সকালে রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডার ১১৮ নম্বর বাসা থেকে মা ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে বের হয়। পরীক্ষা কেন্দ্র শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে যাওয়ার জন্য বিনিময় পরিবহনে ওঠে। পথে মহাখালীর আমতলীতে জানালা দিয়ে মাথা বের করতেই আচমকা একটি ল্যাম্পপোস্টে বাড়ি লাগে। নিমেষেই তাকে নিয়ে পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে গেল। সাকিব চলে গেল না-ফেরার দেশে। সাকিবের চাচাতো ভাই ইসহাক রহমান বলেন, সাকিব বনানীর বিদ্যানিকেতনের ছাত্র ছিল। বাণিজ্য শাখা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। সে শান্ত প্রকৃতির এবং মেধাবী ছিল। নিয়মিত স্কুলে যেত। পড়াশোনা করত। এমন মর্মান্তিকভাবে এতটুকু ছেলে ঝরে পড়ায় তার বাবা-মা বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বনানী থানার এসআই গোলাম রব্বানী বলেন, আমতলীতে চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করেছিল সাকিব। সকাল সোয়া ৯টার দিকে একটি ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় সে। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্বজনরা বলছেন, সাকিবের বাবা জাহাঙ্গীর আলম একজন ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার হরিহরপাড়া গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাকিব ছোট। বড় ভাই রাকিবুল ইসলাম বুয়েটে পড়ছেন। সাকিবের লাশ ঢামেক থেকে দক্ষিণ বাড্ডায় নেওয়া হয়। বাদ আসর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফতুল্লায় লাশ নেওয়া হয়। সেখানে বাদ এশা দ্বিতীয় জানাজা শেষে পঞ্চবটী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

up-arrow