Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫০
ঔপনিবেশিক গোলামির চর্চা চলছে বিচারব্যবস্থায়
হেফাজতে ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থায় এখনো ঔপনিবেশিক গোলামির চর্চা চলছে বলে দাবি করেছে বহুল আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হেফাজতে ইসলাম আমিরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ, হেফাজত নেতা আ ন ম আহমদ উল্লাহ প্রমুখ। বাংলাদেশের আইনের সংস্কারের দাবি জানিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আমাদের বিচারব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের রেখে যাওয়া আইন ও নীতিমালা এখন পর্যন্ত আমাদের বিচারব্যবস্থায় চালু রাখার অর্থ হলো আমরা এখনো গোলামি থেকে মুক্ত হতে পারিনি। আমাদের বিচারব্যবস্থাকে কোরআনের আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে।

না হয় এ দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে না। ’সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক ভাস্কর্য অপসারণ করা না হলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে লিখিত বক্তব্যে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক মূর্তি স্থাপন করে ইসলামের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। এটি এ দেশের সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। কেউ মূর্তিকে ন্যায়বিচারের প্রতীক এ কথা বিশ্বাস করলে তার ইমান থাকবে না। ইসলামে মূর্তি স্থাপন, মূর্তিকে সম্মান জানানো এবং ন্যায়ের প্রতীক মনে করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তাই দ্রুত এ মূর্তি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। যদি অপসারণ করা না হয় তাহলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে। ’

সংবাদ সম্মেলনে গ্রিক মূর্তি অপসারণের দাবিতে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ২৪ ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট ও চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহি মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল। এ সময়ের মধ্যে মূর্তি অপসারণ করা না হলে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ইসলামী চিন্তাবিদেরা রোমান আইনকে অভিশাপ হিসেবে মনে করেন। গ্রিক পুরাণের কল্পিত দেবী থেমিস রোমানদের কাছে ন্যায়ের প্রতীক হতে পারেন। কোনো মুসলিমের কাছে নন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে এ মূর্তি অপসারণ করা না হলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় অভিশাপ নেমে আসবে।

হেফাজত ভাস্কর্যবিরোধী নয়, এমন দাবি করে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আমরা স্থাপত্য ও শিল্পকলার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু ঔপনিবেশিক বিজাতীয় কৃষ্টির অনুপ্রবেশ সহ্য করব না। নিজেদের সংস্কৃতির ভিত্তিতে এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা যেত। কিন্তু পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে উপকরণ নিয়ে এ ধরনের মূর্তি স্থাপনের ফলে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ’

 

up-arrow