Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৭
ফাগুন মেলায় যাওয়া হলো না ওদের
সঞ্জিত সাহা, নরসিংদী

ওরা সবাই ফাগুন মেলায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল। দুটি মাইক্রোবাসে করে ৩২ জন যাচ্ছিল।

কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল অঘটন। বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি মাইক্রোবাসের ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। ওদের কারোই আর ফাগুন মেলায় যোগ দেওয়া হলো না। প্রসঙ্গত, গতকাল নরসিংদীর বেলাবতে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেলাব উপজেলার দড়িকান্দি বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। চালক ছাড়া সবাই ছাতিরচর গ্রামের বাসিন্দা। একসঙ্গে এভাবে এত মানুষের প্রাণহানির খবরে ছাতিরচর গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নার রোল পড়েছে পুরো গ্রামে। নিমিষেই মেলার আনন্দ রূপ নিয়েছে বিলাপে। খবর জানার পর স্বজনদের মরদেহ নিতে নিকলী উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়ার খানের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী দল বেঁধে ভৈরব হাইওয়ে ফাঁড়িতে আসেন। এ সময় নিহতদের মরদেহ দেখে সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আর্তনাদে থানা এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নিহত মানিক মিয়া, মাফিয়া খাতুন, অন্তর আলমের লাশ নিতে আসেন মানিক মিয়ার ছেলে নুরুন নবী। মা-বাবা ও ভাইরে লাশ দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। কোনো রকমে ‘আনন্দ উল্লাস আর মেলা দেখা হলো না আমার মা-বাবার’ বলতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। লাশ নিতে নুরুন নবীর সঙ্গে আসেন তার বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছর আমাদের গ্রামে ফাগুনের প্রথম দিন থেকেই সপ্তাহব্যাপী হয় ফাগুন মেলা। মেলাকে ঘিরে গ্রামের সব লোক একত্রিত হন। মেলায় আনন্দ-উল্লাস আর ভূরিভোজ হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রাম উৎসবমুখর থাকে। কিন্তু এবার উৎসব কান্নার রোলে পরিণত হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow