Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৯
পদ্মা সেতু ও কর ফাঁকি খবরের প্রতিবাদ ইউনূস সেন্টারের
নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের কথিত দুর্নীতির অভিযোগের পেছনে শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততা নিয়ে যে বক্তব্য আসছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনূস সেন্টার।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এ সংক্রান্ত প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী, তার পুত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, কয়েকজন মন্ত্রী ও  বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ দেশের শীর্ষ আইন প্রণেতারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে, সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে, সংবাদ সম্মেলন করে এবং বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ সৃষ্টির নেপথ্যে থাকার জন্য নোবেল লরিয়েট  প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিযুক্ত করে কটু ভাষায় বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আসছেন।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সম্ভাবনা বিষয়ে প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগতভাবে কখনো কারও কাছে কোনো বিবৃতি দেননি। আমরা (ইউনূস সেন্টার) প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রফেসর ইউনূস বরাবরই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন পদ্মা সেতু প্রকল্পের একজন সমর্থক এবং এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে তার বাধা হয়ে দাড়ানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।

পদ্মা সেতু সংক্রান্ত অভিযোগ ছাড়াও কয়েকটি পত্রিকা সূত্র উল্লেখ না করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রফেসর ইউনূসের ওপর ৬৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে। এই তথ্যটিও সত্য নয়। প্রফেসর ইউনূসের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কোনো অনাদায়ী অর্থের দাবি নেই। প্রফেসর ইউনূস তার সব কর পুরোপুরি ও সময়মতো পরিশোধ করে থাকেন। তার আয় ও কর সংক্রান্ত সব তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আছে। তিনি তার আইনগত অধিকার বলে সাম্প্রতিক কিছু কর দাবি সম্পর্কে, যা তার নিকট অন্যায্য মনে হয়েছে, তা নিয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে আদালতের যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। প্রতিবাদে আরও বলা হয়, আকস্মিকভাবে এবার আরেকটি অভিযোগ তোলা হয়েছে গ্রামীণ ট্রাস্ট কর্তৃক বিদেশে অর্থ প্রেরণ নিয়ে। গ্রামীণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয় অন্যান্য দেশে ক্ষুদ্রঋণ পদ্ধতি রেপ্লিকেশনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণ ট্রাস্ট ১৯৯৬-৯৭ ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ইউএসএআইডি ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি সাহায্য সংস্থা থেকে ডোনার ফান্ড বাবদ প্রাপ্ত ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ ৩৮টি দেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে সহায়তা বাবদ পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এই স্থানান্তরের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো তথ্য আয়কর ফাইলে নেই। এতে এই ধারণার সৃষ্টি হতে পারে যে, গ্রামীণ ট্রাস্ট বাংলাদেশকে দেওয়া সহায়তার অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করছে। বিষয়টি তা নয়। ডোনাররা গ্রামীণ ট্রাস্টকে এই অর্থ শুধু ওই সব দেশে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সব কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ওই দেশগুলোর ওই সব প্রকল্পে অর্থ প্রেরণের সব আইনগত অনুমোদন এক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়েছে।

up-arrow