Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
চাঙা শেয়ারবাজারে বাড়ছে বিনিয়োগকারী
আলী রিয়াজ

বিনিয়োগকারীদের পদচারণায় আবারও মুখোরিত হচ্ছে শেয়ারবাজার। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে শেয়ারের দর ও সূচক।

বাজারের এই চাঙা মেজাজে বাড়ছে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। গত দেড় মাসে নতুন বেনিফিসিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার। প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বাজারে যারা লেনদেন করেনি এসব অ্যাকাউন্টেও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ সালের পর লেনদেনে নিষ্ক্রিয় থাকা বিও অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে উঠছে। গত দুই মাসে নতুন করে নিষ্ক্রিয় থাকা প্রায় আট লাখ বিও অ্যাকাউন্টে লেনদেন করছেন লগ্নিকারীরা। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজার স্থিতিশীল থাকায় বিনিয়োগকারীরা আসছে। এটা বাজারের জন্য শুভ লক্ষণ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজার সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ।

জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে চাঙা শেয়ারবাজার। বাজারে এই চাঙা মেজাজে আগ্রহী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই ফিরে আসছেন বাজারে। এ ছাড়া শেয়ার দর বৃদ্ধির খবরে অনেক নতুন বিনিয়োগকারী ঢুকছেন। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে স্মরণকালের ভয়াবহ ধসের সময় শেয়ারবাজার বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ লাখ। ওই ঘটনার পর বাজার থেকে প্রায় ১০ লাখ বিনিয়োগকারী বাজার থেকে চলে যায়। তবে ২০১৪ সালের পর শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৯ লাখে পৌঁছায়। তবে এর মধ্যে শেয়ারবাজারে সক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে প্রায় ২০ লাখ অ্যাকাউন্টে নিয়মিত লেনদেন হয়েছে। গত দুই মাস ধরে শেয়ারবাজার ফের চাঙা মেজাজে ফিরে আসলে বিও অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। চলতি বছরের শুরুতে যেখানে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ৪৮ হাজার। সর্বশেষ সেটা ২৯ লাখ ৫৫ হাজারে পৌঁছেছে। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এখন প্রায় ২৮ লাখের কাছাকাছি। যা গত দু্ই মাসে শেয়ারবাজারে লেনদেনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ শেয়ারবাজার চাঙা হয়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। অধিকাংশ অ্যাকাউন্টধারী এখন বাজারে লেনদেন করছেন। জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ব্যাংক খাতে সুদের হার কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আগ্রহী হচ্ছেন। এ ছাড়া বাজার এখন ইতিবাচক ও স্থিতিশীল আছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে অনেকে নতুন করে বাজারে ঢুকছেন। এটা পজিটিভলি দেখা যায়।

 ঝুঁকি সব সময় থাকে। যারা এসেছেন তারা সতর্ক থাকলে বাজারের জন্য এটা ভালো।

২০১০ সালে শেয়ার কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ব্যাংকের ডিপোজিট সুদ হার কমায় অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন। তবে দেখা যাচ্ছে দুর্বল, জেড ক্যাটাগরির শেয়ার দর বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী যারা নতুন আসছেন বা সক্রিয় হচ্ছেন তাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বেশি মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করে এই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow