Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১২
পিএইচডি করতে গিয়ে ফিরছেন না শিক্ষকরা
মর্তুজা নুর, রাবি
পিএইচডি করতে গিয়ে ফিরছেন না শিক্ষকরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) যোগদান করার কয়েক বছর পরই বেশির ভাগ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধায় পিএইচডি ডিগ্রির জন্য শিক্ষাছুটি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। পিএইচডি শেষ করে তাদের অনেকেই দেশে ফিরছেন না।

ভালো চাকরির সুযোগ পেয়ে সেখানেই যোগ দিচ্ছেন তারা। এভাবে মেধা পাচারের ফলে উচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের শিক্ষার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য একজন শিক্ষক পাঁচ বছরের শিক্ষাছুটি নিতে পারেন। এই সময়ে বেতন-ভাতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু শিক্ষাছুটি শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক চাকরিতে যোগদান না করলে তাকে চাকরির অবসান ঘটানো হয়। সেই সঙ্গে তার কাছ থেকে ১০ শতাংশ সুদসহ ওই পাঁচ বছরের বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংস্থাপন দফতর বলছে, উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর অনেক শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতিও নেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বিদেশে চাকরির সন্ধান করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর শতাধিক শিক্ষক উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য শিক্ষাছুটি নিচ্ছেন। এদের অনেকেই যাচ্ছেন বিদেশে। বিদেশে যাওয়ার এই রীতি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার পর ফেরেননি ৭৪ জন শিক্ষক। এদের সবার চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে। কিন্তু সুদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন-ভাতা ফেরত দেননি অনেকেই।

সহকারী রেজিস্ট্রার মুস্তাফিজ সাদেকের দেওয়া তথ্য বলছে, বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষকদের কাছ থেকে ৯২ লাখ ১৪ হাজার ৪২৪ টাকা আদায় করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চাকরি অবসান হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে এখনো পাওনা পরিশোধ করেননি ১৬ জন। আংশিক পরিশোধ করেছেন ছয়জন শিক্ষক। সুদ মওকুফ হয়েছে পাঁচজনের। আর একজন শিক্ষক মারা যাওয়ায় তার পাওনাদি মওকুফ করা হয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষকদের কাছে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন ১০৪ জন শিক্ষক। এদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ফার্মেসি ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগের ১১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন শিক্ষাছুটিতে। এতসংখ্যক শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে থাকার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশে মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন না থাকার জন্যই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই দেশে ফিরতে চান না। তবে যে দেশে পড়াশোনা করে ও যে প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষকরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, সেই দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কথা বিবেচনা করে তাদের দেশে ফেরা উচিত। অন্যথায় এভাবে মেধা পাচার হলে জাতি একসময় মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow