Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০১
বসুন্ধরায় শেষ হলো ফার্মা এক্সপো
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ওষুধ উৎপাদনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো’ গতকাল শেষ হয়েছে। জমজমাট এ প্রদর্শনীতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্লিনিক মালিক, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ভিড় জমিয়েছিলেন। তাদের অনেকেই জানান, প্রদর্শনীতে এসে তারা ওষুধ উৎপাদনের বিশ্বসেরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দেখে অভিভূত হয়েছেন। প্রদর্শনীতে ঘুরে ঘুরে তারা ওষুধ উৎপাদনের মেশিন, কেমিক্যাল মিশ্রণের মেশিন, প্যাকিং করার যন্ত্র এবং ক্লিনিক ও হাসপাতালে ব্যবহূত বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখেছেন। সরেজমিনে এক্সপোতে দেখা গেছে, হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে এ প্রদর্শনী তাদের নতুন ধারণা দিয়েছে। প্রদর্শনীতে সারা দেশ থেকে উদ্যোক্তারা এসেছিলেন। তারা ঘুরে ঘুরে দেখেন অত্যাধুনিক নানা সরঞ্জাম। দেখা গেছে, ট্যাবলেট তৈরির মেশিনের প্রতি প্রায় সবারই আকর্ষণ ছিল। ভিড় করে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা মেশিন থেকে ওষুধ উৎপাদন দেখেছেন। তারা দেখেছেন, একটি মেশিনের মধ্যে বিভিন্ন কেমিক্যাল দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো গিয়ে ট্যাবলেট হয়ে বের হচ্ছে। স্টল কর্মীরা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কীভাবে কেমিক্যাল ঢালতে হয়। দর্শকরা দেখছিলেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেমিক্যাল সঠিক মাপ ঠিক রেখে মেশিনই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছে। তৈরি হওয়া ট্যাবলেট গিয়ে ঢুকছে আরেকটি মেশিনে। সেখান থেকে সেগুলো প্যাকিং হয়ে বের হচ্ছে। আবার সেই প্যাকিংসহ ওষুধ গিয়ে ঢুকছে আরেকটি মেশিনে, যেখানে ওষুধের নাম, সিল, লোগো ছাপা হয়ে বের হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগছিল মাত্র আধা ঘণ্টা। স্টল কর্মী জানান, এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে এই প্রথম এসেছে। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাতে এ কাজে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। এ মেশিনে ট্যাবলেট তৈরি থেকে প্যাকিং পর্যন্ত কাজে মাত্র একজন অপারেটর লাগে। এমন মেশিন শুধু ট্যাবলেট নয়, বিভিন্ন ধরনের সিরাপ তৈরির জন্যও রয়েছে।

প্রদর্শনীতে দেখা গেছে মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে হাসপাতাল, ক্লিনিকে ব্যবহূত বিভিন্ন মেশিন, অপারেশন টেবিল, স্ক্যান মেশিন, এক্স-রে ক্যামেরা। এসব পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। তারা এসব সরঞ্জামের সুবিধা সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন। প্রদর্শনীতে দর্শকরা ওষুধ শিল্পসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। স্টলগুলোয় ছিল বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রতিষেধক সম্পর্কে নানা তথ্যসংবলিত হ্যান্ডবিল, বই।

এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় বাংলাদেশসহ বিশ্বের নামিদামি ৬০০ কোম্পানি। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা তাদের ধারণার চেয়েও দর্শকদের বেশি সারা পেয়েছেন। বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তাও মেশিন কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো’ ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই এক্সপো চলেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow