Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ০২:২৬
শাহজালালে রাডার স্থাপন হবে সরকারি অর্থায়নে পিপিপিতে নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাল্টিমোড সার্ভিল্যান্স সিস্টেম (রাডার) স্থাপন প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) পরিবর্তে পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পিপিপিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সরকার প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 এদিকে একই স্থানে পরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ক্রয় কমিটির সভায় ২৫৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এবং ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান এ সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাডার স্থাপন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এটি আগে পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কথা ছিল। তিনি জানান, যখন এটি পিপিপিতে দেওয়া হয়েছিল, তখন ব্যয় কম হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এখন টেন্ডার করার পর দেখা যাচ্ছে, ব্যয় বেশি হবে। তাই এটি এখন পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই হবে।

জানা গেছে, বিমানবন্দরে আধুনিক ও যুগোপযোগী রাডার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও অর্থ সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে তা হয়নি। ডেনমার্কের অর্থায়নে বিমানবন্দরের আপগ্রেডেশন প্রকল্পে রাডার সংস্থাপন কম্পোনেন্টটি থাকলেও অর্থাভাবে সেটিও বাদ পড়ে। পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। পরে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। কিন্তু পিপিপিতে দফায় দফায় এ প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার সাতশ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ অবস্থায় সরকার পিপিপি থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নিজেদের অর্থায়নেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে।  

আসছে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে ২৫৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে বেসরকারি খাত থেকে তা প্রতি কিলোওয়াট ১১ টাকা দরে কিনবে সরকার। যা সরকারি ক্রয় কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, বাগেরহাট, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে ২৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে চারটি প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে সরকার। যেখানে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের দাম কিলোওয়াট প্রতি ১১ টাকার বেশি দামে সরকার ক্রয় করবে সরকার। এ চারটি প্রকল্পেই বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি করবে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর নির্ধারিত দামে সেই বিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে। এর মধ্যে ৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র হবে টাঙ্গাইলে। এটি বাস্তবায়ন করবে কনসোর্টিয়াম অব হানওয়া সিটি কোম্পানি লিমিটেড, বিজে পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং সোলার সিটি বাংলাদেশ লিমিটেড। এই বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট ১৩ মার্কিন সেন্ট  করে কিনবে সরকার। যা বাংলাদেশি টাকায় ১০ টাকা ৪০ পয়সা করে পড়বে। ২০ বছরে সরকারের আনুমানিক মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলায় অপর একটি কেন্দ্রে উৎপাদন হবে ৮ মেগাওয়াট। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের জেভি অব প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড ও প্যারাসোল এনার্জি লিমিটেড এবং হংকংয়ের সিম্বোইর সোলার সিয়াম লিমিটেড। একই দরে বিদ্যুৎ ক্রয়ে ২০ বছরে সরকারের মোট আনুমানিক ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

বাগেরহাটের ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনারগন টেকনোলজিজ এফজেডই এবং চায়না সানারজি কোম্পানি লিমিটেড। প্রতি কিলোওয়াট ১৩ দশমিক ৮ সেন্ট করে কিনবে সরকার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ দশমিক ৪ টাকা। ২০ বছরে এতে আনুমানিক ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা পরিশোধ করবে সরকার।

এ ছাড়া নীলফামারী ও লালমনিরহাটে দুটি সৌরবিদ্যুৎকন্দ্র স্থাপন করা হবে। দুটিরই উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট করে। এটি বাস্তবায়ন করবে কনসোর্টিয়াম অব ঝেজিয়াং ডান্যান নিউ এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন, সোলার টেক পাওয়ার লিমিটেড, এমিটি সোলার লিমিটেড। এ দুটি কেন্দ্র থেকে সরকারি প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ১১ দশমিক ২০ টাকা দরে ক্রয় করবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow