Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২২:৫৬
ফরমালিন আতঙ্কে বাংলাদেশ থেকে মাছ আমদানিতে বিধিনিষেধ
দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত মাছে ফরমালিন পাওয়ায় এবার মাছ আমদানিতে বিধিনিষেধ চালু করেছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। গতকাল এ কথা জানিয়ে রাজ্যটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী বলেন, ‘পানির সঙ্গে ফরমালিন অথবা ফরমালডিহাইডিল মিশ্রণ করে সেই পানি মাছ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে যে মাছ আমদানি করা হচ্ছে সেখান থেকে ছয়টি মাছের নমুনার মধ্যে এই নিষিদ্ধ ফরমালিন পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিকটি মানুষের শরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেসব বিক্রেতার মাছে ফরমালিন প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন ‘আগরতলা-আখাউড়া সুসংহত চেকপোস্ট ছাড়া রাজ্যের সাতটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস) দিয়ে বাংলাদেশ থেকে যাতে ত্রিপুরায় মাছ আমদানি না হয় এ ব্যাপারে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। এই সাতটি এলসিএস হলো আগরতলা, শ্রীমন্তপুর, খোয়াইঘাট, কমলাপুর (পশ্চিম ত্রিপুরা), ওল্ড রাঘনাবাজার (উত্তর ত্রিপুরা), বেলোনিয়া এবং সাব্রুম (দক্ষিণ ত্রিপুরা)। যতক্ষণ না পর্যন্ত এই সাতটি এলসিএস-এ পর্যাপ্ত অবকাঠামো, জনবল নিয়োগ না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই স্থলবন্দর দিয়ে মাছ আমদানি করাটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড অ্যান্ড সেফটি কর্মকর্তারা আগরতলা থেকে ৪০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলোকে গবেষণাগারে পাঠানো হয়।

দেখা যায়, এর মধ্যে ১১টি নমুনায় ফরমালিন যুক্ত। এই ১১টির মধ্যে পাঁচটি নমুনা মেলে আগরতলার দুটি বড় মত্স্য বাজার থেকে এবং ৬টি নমুনা পাওয়া যায় বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত মাছে। ’

রাজ্য সরকারের ফুড সেফটি সিকিউরিটি আইন-২০১১ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, জেল হতে পারে অথবা দুটোই হতে পারে।

রাজ্য সরকারের শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতিদিন ২৫,৬৪৪ কিলোগ্রাম মাছ আমদানি করা হয় এবং ২৬,১৮০ কিলোগ্রাম মাছ আনা হয় অন্ধ্রপ্রদেশসহ রাজ্যের বাইরে থেকে। এই মাছগুলো বাংলাদেশ ও দেশের অন্য রাজ্য থেকে এনে তা পরীক্ষা না করেই ত্রিপুরার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হতো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow