Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০৩:০৮
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা
বঙ্গবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবিচ্ছেদ্য
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধুর জন্ম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা প্রায় সমসাময়িক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করেছেন।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে বহিষ্কার হয়েছেন। স্বাধীনতার পর ’৭৩-এর অধ্যাদেশের মাধ্যমে তিনি ঢাবিকে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছেন। তাই বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।  

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম এ বইটি রচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ জামাতা অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (ডুয়া) সভাপতি এ কে আজাদ, মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু আলম মো. শহীদ খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন হিমালয়ের মতো উঁচু। নতুন প্রজন্মের অনেকে বঙ্গবন্ধুকে দেখেনি। আমার সৌভাগ্য হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে দেখার।

তাকে একবার যে দেখেছে সে ভুলতে পারে না। তিনি হচ্ছেন সেই নেতা যিনি মাত্র ১৮ মিনিট বক্তব্য দিয়ে বিশ্বজয় করেছেন। তার বক্তব্য শোনার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ছুটে আসত।

 মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের ভুল থাকতে পারে, তবে জাতির জনক নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে সে দেশের জাতির জনককে নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। বিশ্বের আর কোনো দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের সব অর্জন শেষ হয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত হবে। এই বাংলা আবার বধ্যভূমিতে পরিণত হবে। তাই আমাদের শপথ নিতে হবে- এই অপশক্তি যেন আর কখনো দেশের শাসন ক্ষমতায় আসতে না পারে। মন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে তারা পাপিষ্ঠ, তারা জ্ঞানপাপী। তারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। জিয়া, এরশাদ আর খালেদা জিয়ার আমলে এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাদের গাড়িতে শহীদের রক্ত বিজড়িত পতাকা উড়েছে। তাই ভয় হয়।

বিএনপির বিগত আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরাও রাজনীতি করেছি, আন্দোলন করেছি, কিন্তু কখনো মানুষকে আঘাত করিনি। অথচ বিএনপি-জামায়াত বিগত নির্বাচনের আগে এবং পরে আন্দোলনের নামে পুলিশ মেরেছে, নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত নিয়ে বিএনপির কাছ থেকে আমরা কোনো ছবক শুনতে চাই না। কারণ মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ কখনো বেশি হতে পারে না। শেখ হাসিনা যেটা করবেন সেটা অবশ্যই দেশের ভালোর জন্য করবেন।

অধ্যাপক শফিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছেন। স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চার দ্বার উন্মোচন করেছেন। এর ফলে দেশ এগিয়ে গেছে। এই ধরনের সঠিক চিন্তাধারা বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিল। জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু-এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু এই দেশের মানুষের হৃদয়ে হাজার বছর থাকবেন। আর রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসনের সময় বঙ্গবন্ধুর দুই-একটি ভুলত্রুটি থাকতে পারে। কারণ বঙ্গবন্ধুও একজন মানুষ। ভুল করে না ফেরেশতা কিংবা শয়তান। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দুই বছর না যেতেই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিশেষ করে জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে কার্যকলাপ করেছে- তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অধ্যাপক শফিক সিদ্দিক বলেন, আমি শিক্ষক, রাজনীতি করি না। পছন্দও করি না। যে যে দলই করুক না কেন- সবাই আমার ছাত্র। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা-এ কথা যে স্বীকার করে না আমিও তাকে স্বীকার করব না।  

উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি শিক্ষকদের খুব সম্মান করতেন। বয়সে ছোট সবাইকে আদর করে ‘তুই’ করে ডাকলেও তিনি বয়সে ছোট হলেও শিক্ষকদের ‘আপনি’ করে সম্বোধন করতেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো মহামানবদের নিয়ে বই লেখার অনেক উপাদান আছে। ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে এর আগে কোনো বই লেখা হয়নি- এটা আশ্চর্যের বিষয়। কারণ বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কার, আমাদের জন্য আশীর্বাদ ছিল। আমরা একজন জাতির জনক পেয়েছি। না হলে হয়তো শেখ মুজিবকে আমরা একজন ভালোমানের উকিল হিসেবে পেতাম। কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর সেদিনের আন্দোলন যে যৌক্তিক ছিল, তার বহু প্রমাণ আমরা স্বচক্ষে দেখেছি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow