Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৪
শালিসে নির্যাতনে প্রাণ গেল আদিবাসী তরুণী শ্যামলীর
দিনাজপুর প্রতিনিধি
bd-pratidin

অন্য ধর্মের ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার অভিযোগে গ্রাম্য শালিসির নামে নির্মম নির্যাতনে অসুস্থ শ্যামলী হাসদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, রাগে-ক্ষোভে-লজ্জায় বিষপানে মারা যায় সে। মৃত শ্যামলী হাসদা (১৮) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মী হোসেনপুর গ্রামের শিবচরণ হাসদার মেয়ে এবং বগুড়ায় ডিপ্লোমা নার্সিংয়ের ছাত্রী। ২৬ আগস্ট লক্ষ্মী হোসেনপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। শ্যামলী মারা যায় ২৯ আগস্ট। গতকাল তার বড় কাকা তুরকা হাসদা জানান, ‘আমরা এর বিচার চেয়ে ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, ২৬ আগস্ট হরিরামপুরের জনৈক মোজাহার আলীর সঙ্গে নিজ ঘরে বাবা-মাকে নিয়ে কুশল বিনিময় করছিল শ্যামলী হাসদা। তার অভিযোগ, এ সময় অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে গ্রামের মাতব্বর সোম হাসদার নেতৃত্বে সাত-আট জনের একটি দল শ্যামলী ও তার বন্ধু মোজাহার আলীকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তাদের সোম হাসদার বাড়িতে নিয়ে দুজনকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে আটক না করে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার কথা বলে। ওইদিন রাত ৮টার পর পুলিশ, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা শ্যামলীকে তার বাবা-মায়ের কাছে রেখে যান। শ্যামলীর বাবা মেয়েকে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করান। পরদিন ২৭ আগস্ট সকালে শ্যামলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

 তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ২৯ আগস্ট রাতে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেমা বেগম জানান, ‘চিকিৎসা শুরুর পর বুঝতে পারলাম রোগী বিষপান করেছে। তাই রোগীর অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।’

হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান নির্যাতনের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নির্যাতনের পর আমি জানতে পারি ঘটনা। আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন ওদের বেঁধে মারধর করে। মাতাব্বর সোম হাসদার বাসায় মেয়েটিকে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই আটক রেখে মোজাহার হোসেনকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে এনে দিয়ে চিকিৎসার কথা বলি। পরে জানলাম ওইদিন রাতে রাগে-ক্ষোভে-লজ্জায় মেয়েটি বিষ পান করেছে।’ কোনো চিকিৎসা না করে শ্যামলীকে আটকে রেখে বিচার-শালিসের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান জানান, ‘অন্য ধর্মের ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক করার অভিযোগে তাদের দুজনকে আটক করে এবং আদিবাসীরা শালিসের মাধ্যমে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। তাদের নির্যাতনের কথা আমি জানি না। তবে আমি জানি মেয়েটি বিষপান করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে মারা গেছে। এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। এর পরও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মৃত্যুর আগে কিংবা পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow