Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০০
শিবিরে বাড়ছে হানাহানি
গলা কাটা অবস্থায় আহত ছয় রোহিঙ্গা উদ্ধার
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পেছনের পাহাড় থেকে গুরুতর আহত (গলা কাটা) অবস্থায় ছয় রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা তাদের অপহরণ করে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছিল। টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর কর্মকার জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় চাকমারকুলের পারিয়া পাহাড়ের ভিতর থেকে প্রথম দফায় গলা কাটাসহ রক্তাক্ত অবস্থায় তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার রোহিঙ্গারা হলেন উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ই-৩ ব্লকের ৮ নম্বর ঘরের আবদুল গফুরের ছেলে মো. আনোয়ার (৪০), কুতুপালং ই-৩, ৮ ব্লকের শফিক হোসনের ছেলে নুর আলম (৪৫) ও বালুখালী এ-১, ১ ব্লকের জামাল মোস্তফার ছেলে মো. খালেক (২২)।

উদ্ধারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে বিকালে আরও তিন রোহিঙ্গাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তারা হলেন বালুখালী ক্যাম্প-১-এর সৈয়দ হোছনের ছেলে জামাল মোস্তফা, বালুখালী-৩৩, ই-৩ ব্লকের মাহমুদুর রহমানের ছেলে সোলাইমান (২০) ও ক্যাম্প-৯, জি-৩৩ ব্লকের জামাল হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন (৩৩)। আহতদের চাকমারকুল সেভ দ্য চিলড্রেন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য উখিয়া কুতুপালং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহত গলা কাটা অবস্থায় আনোয়ারকে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নূর আহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি উখিয়া থেকে ছয়জন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করা হয়েছে। দুই দফায় পুলিশের অভিযানে গলা কাটাসহ রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হানাহানি বাড়ছে। শুক্রবার টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্বৃত্তরা বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবী মো. আবু ইয়াছেরকে (২২) হত্যা করে। এ ঘটনার এক দিন আগে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে উখিয়ার একটি ক্যাম্পে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে রোহিঙ্গারা।

এ ছাড়া গতকাল টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবির থেকে অস্ত্রসহ জিয়া নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। রোহিঙ্গা শিবিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোয় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে না পারলে তারা বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow