Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৫
ক্ষোভে ফুঁসছে চাকরিবঞ্চিতরা!
সিপাহি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ১৮৫ জন সিপাহি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে বাহিনীর কর্মকর্তা, সদস্য ও চাকরিবঞ্চিতরা। নিয়োগ কমিটির সদস্যদের কৌশলে কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া, অনেক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া, কর্মকর্তাদের বদলি করে দেওয়ার হুমকিসহ অনেক অভিযোগ ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে রেল অঙ্গনে। সিপাহি নিয়োগের ফল ঘোষণার পর থেকেই এক বা দুই দিন নামেমাত্র অফিস করেছেন পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট (সিআরএনবি) মো. ইকবাল হোসেন। এরপর বন্ধের সময় রাতারাতি নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করেন রাতের অন্ধকারে।

জানা যায়, সিপাহি নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রী, সচিব, দুদকসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এসব নিয়ে তোলপাড় চলছে রেল অঙ্গনে। নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রেলের সেই আলোচিত ৭০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতারকৃত নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট এনামুল হকের নিকটাত্মীয়ও। এর আগে রেলওয়েতে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানাবিধ অভিযোগে সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মন্ত্রিত্ব হারান।

সরেজমিন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সিপাহি নিয়োগের অনেক অনিয়মের চিত্রসহ নানাবিধ তথ্য অকপটে রেল অঙ্গনসহ বিভিন্ন স্থানে বলেছেন হতাশাগ্রস্ত চাকরিপ্রত্যাশীরা। এসবের মধ্যে সিপাহি নিয়োগে কোটা বিভাজনে অনিয়ম, যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও নেওয়া হয়নি, নিয়োগ কমিটির আহ্বায়কের বাসা ঘেরাও, জেলা কোটায় অনিয়ম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাকরি না দেওয়া, টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়া, টাকার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের চাকরি দিতে জিএম-আহ্বায়কের গোপন বৈঠক, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে বিতর্ক, টাকার বিনিময়ে অনেক বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত লোকও চাকরি পেয়েছেন, ভিডিও ও অডিও রেকর্ড আছে এমন আলোচনায় তোলপাড় হচ্ছে রেল অঙ্গনে। নিয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য ও এসপিও সিরাজুল্লাহ বলেন, এখানে অনেকেই সুপারিশ করেন সবার চাকরি তো হয় না। যারা চাকরি পেয়েছেন তারা খুশি হবেন আর যারা পাননি তারা একটু হতাশাগ্রস্ত তো হবেই। তবে নিয়োগ বাণিজ্যের কোনো অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সদস্যসহ রেলের কর্মকর্তারা বলেন, আহ্বায়ক এককভাবে সব তৈরি করে কৌশলে কমিটির সদস্যদের ডাকা হয়। এতে এক বছর সময় আছে বলে সবাইকে দুর্বল করে তার (আহ্বায়ক) ইচ্ছামতো কৌশলে কাজ করেছেন। তিনি (আহ্বায়ক) পূর্বাঞ্চলের আরএনবির প্রধান হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলেন না। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে জনবল সংকটের কারণে শূন্য পদের বিপরীতে ২০১৭ সালে ১৮৫ জন সিপাহি নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। প্রথমে এ নিয়োগের প্রক্রিয়া পশ্চিমাঞ্চলে হওয়ায় কথা থাকলেও কৌশলে পূর্বাঞ্চলে আনা হয়েছে। এরপর বাহিনীর প্রধান ইকবাল হোসেনকে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্যরা হলেন সদস্য সচিব কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম, সদস্য-কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলাম, এসপিও সিরাজুল্লাহ ও কমান্ড্যান্ট ফুয়াদ হোসেন পরাগ। ফলাফলের তালিকা সূত্রে জানা গেছে, সিপাহি নিয়োগের ১৮৫ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের ১১ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, মাগুরার কেউ চাকরি পায়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow