Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৮
এএসপির বিরুদ্ধে মামলা
কলেজছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
নরসিংদী প্রতিনিধি

এবার নরসিংদীর মনোহরদীতে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রনি মৃধা (১৮) নামে এক কলেজছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এএসপির বিরুদ্ধে। ওই সময় নির্যাতিত ছাত্রকে বাঁচাতে গেলে তার মাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় এএসপিকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ পৃথক দুটি মামলা করেছে নির্যাতিত ছাত্রের পরিবার। নির্যাতিত কলেজছাত্র রনি মৃধা উপজেলার একদুয়ারিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন মৃধার ছেলে। সে শিবপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত খলিলুর রহমান ওই ইউনিয়নের মৃত সুলতান উদ্দিনের ছেলে। তিনি এসবি ঢাকা (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) সহকারী পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— এএসপি খলিলুর রহমানের তিন ভাই ওলি মিয়া, আবদুল মালেক, আসাদুল্লাহ, ভাতিজা টিপু ও রফিজউদ্দিনের ছেলে মোশারফ মিয়া। মামলার এজাহারে বাদী জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ২৯ আগস্ট অভিযুক্ত খলিলুর রহমান ও তার ভাইয়েরা মিলে কলেজছাত্র রনি মৃধাকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন। ঘটনার পর ছেলেকে নির্যাতনের বিষয় জানতে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শিউলি বেগম এএসপি খলিলের বাড়িতে গেলে তারা শিউলি বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

এক পর্যায়ে তারা ছেলের সামনে শিউলি বেগমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ ব্যাপারে মনোহরদী থানার ওসি মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, নির্যাতনের বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। তবে এএসপি সাহেব মোবাইল ফোনে জানান যে, ঘটনার দিন তিনি বাড়ির বাইরে বের হলে এলাকার কিছু ছেলে ওনার মোবাইল ফোন ছিনতাই করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যের ছেলে জড়িত ছিল বলে জানান। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেন।

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, রনি মৃধা আমার ভাতিজি স্কুল থেকে ফেরার পথে তার ওপর মোটরসাইকেল উঠিয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় সে বাড়িতে এসে আমাদের হুমকি দিয়ে গেছে। এরপর আমাদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমি বাড়িতে গেলে সে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে গেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমঝোতা হয়। এখন উল্টো তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow