Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৬
শ্রীপুরের মেয়রের পক্ষে প্রক্সি দিয়ে কারাগারে যুবলীগ নেতা
আদালত প্রতিবেদক

অর্থ আত্মসাতের  মামলায় গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীপুর পৌরসভার মেয়রের পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে এখন কারাগারে আছেন যুবলীগ নেতা নুরে আলম। রবিবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন যুবলীগ নেতা নুরে আলম শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে চার মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বিচারক মো. মিজানুর রহমান খান এক মামলায় জামিন দিয়ে বাকি তিন মামলায় জামি নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, শ্রীপুরের মেয়র আনিছুর রহমান কারাগারে। ওই খবরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হলে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। জানা যায়, ‘শনিবার রাতে দক্ষিণ এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন মেয়র আনিছুর রহমান। ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরার কথা রয়েছে।’ এরই মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার তওফির উদ্দিনের ছেলে নুরে আলম মেয়র সেজে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জামিন নেওয়ার চেষ্টা করে ধরা পড়ে। এদিকে জামিন নাকচ করা তিন মামলার মধ্যে একটি মামলা ধার্য তারিখ ছিল গতকাল ওই একই আদালতে। এর ফলে নকল মেয়র নুরে আলমকে নিয়মানুযায়ী কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রাষ্ট্র পক্ষ থেকে বিষয়টি আদালতের নজরে বিচারক আসামির কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নূরে আলম বলেন, মেয়র আনিছুর রহমান বিদেশে যাওয়ার আগে তাকে বলে যান, তার পরিবর্তে আদালতে মামলায় কাজ করতে। পরে তিনি ঘটনার দিন সাকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকার জজ আদালতে এসে আইনজীবীর কাছে যান। পরে তিনি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান। পরে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সে জেনে শুনেই আনিছুর রহমানের পরিবর্তে আদালতে দাঁড়ায়। পরে কারাগারে প্রবেশের সময়ও আনিছুর রহমান পরিচয় দেয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছ, ২০১০ সালের বিভিন্ন সময়ে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন হাটবাজার ইজারা দেওয়া  টাকা পরস্পর যোগসাজসে মেয়র আনিছুর রহমানসহ অন্যরা আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ সহকারী পরিচালক ফখনলি ইসলাম পৃথক  চারটি মামলা করেন। এই মামলা চারটি ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পন করার অভিযোগে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, মেয়র আনিছুর রহমান ও নুরে আলমের বিরুদ্ধে  রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow