Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৩
তিন বছরের পরিকল্পনায় চার কোটি টাকা লুট
মাহবুব মমতাজী

পরিকল্পনাটি ছিল তিন বছর আগের। সেই অনুযায়ী ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাদের কাছে ডিউটি চেয়ে নিয়েছিল ওরা। পালাক্রমে ওই চক্রের সদস্যরাই রাজধানীর উত্তরা থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের ফ্যাক্টরিতে টাকা আনা-নেওয়ার কাজটি করে আসছিল। এরপর সুযোগ বুঝে ৭ আগস্ট টাকা আনা-নেওয়ার স্কট ডিউটিতে থাকা গার্ডরাই ৪ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। পরদিন এ ঘটনায় মামলা হলে জড়িত অভিযোগে ঢাকা ও গোপালগঞ্জ থেকে আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা হলেন সাইফুল ইসলাম, নাহিদ, রাসেল, জহিরুল, হাবিব, মনির, নয়ন ও আসাদ। আটকের পর তারা স্বীকার করেন টাকা লুটের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার কথা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কাছে কিছু টাকা পাওয়া গেছে। তবে বাকি টাকা কোথায় আছে, কার কাছে আছে সন্ধান পাওয়া যায়নি। তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানায়, ৭ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে উত্তরার ঢাকা ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলে একটি গাড়িতে স্কট করে ভালুকায় এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই টাকা স্কটের সময় গাড়ির চালক সাইফুল ইসলাম, গার্ড রাসেল হাওলাদার ও রোমান মিয়া উপস্থিত ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর সাইফুল ও রাসেল কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে রোমানকে অজ্ঞান করে ভাটারা এলাকায় ফেলে যান। এ সময় রাসেলও একই এলাকায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার অভিনয় করেন। পরে সেই টাকা চালক সাইফুল আরেকটি গাড়িতে তুলে দেন। নাহিদ ও হাবিব নামে দুজনের সঙ্গে ওই গাড়ির চালক জহিরুল টাকাগুলো নিয়ে মাওয়া ফেরিঘাটের দিকে যান। সেখানে যাওয়ার পর নাহিদ ও হাবিব ওই গাড়ির চালক জহিরুলের হাতে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। মাওয়া ফেরিঘাট পার হয়ে বাকি সব টাকা নিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে চলে যান নাহিদ ও হাবিব। ঘটনার দুই দিন পর ৯ আগস্ট মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে নাহিদ ও হাবিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে রাসেল ও সাইফুলের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে। পরদিন রাসেলকে গ্রেফতারের পর গোপালগঞ্জ থেকে মনির, নয়ন ও আসাদ নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া কিছু টাকা পাওয়া যায়। এরপর রাজধানীর উত্তরখানে অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকাসহ জহিরুলকেও গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তারা তিন বছর আগ থেকেই এ টাকা লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন। কারণ উত্তরা থেকে ওই কোম্পানির ফ্যাক্টরিতে নিয়মিত ৪ কোটি টাকার বেশি আনা-নেওয়া করা হতো। ঘটনাটি জানতে পেরে হাবিব স্কট থেকে টাকা লুটের প্রলোভন দেখান।

কীভাবে সেটি লুট করা হবে সেই কৌশলটিও তার দেওয়া। হাবিব অজ্ঞান পার্টির সদস্য ছিলেন বলেও জানতে পারে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আশরাফুল করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটার পরই জড়িতদের ধরতে তাত্ক্ষণিক কাজ শুরু করে পুলিশ। আমরা অর্ধেকের বেশি টাকা উদ্ধার করে মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছি। বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow