Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৮ ১১:২০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০১৮ ১১:২২
শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সৃষ্টিকারী আন্দোলন; অতঃপর কালিমা লেপন!
নবেন্দু সাহা জয়
শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সৃষ্টিকারী আন্দোলন; অতঃপর কালিমা লেপন!
প্রতীকী ছবি

‘একটি গণআন্দোলন সফল করতে হলে নিশ্চিতভাবেই তাঁর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকতে হয়’- জাতির জনকের এই বক্তব্যটি তাঁর সুদীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত শিক্ষণীয় উপদেশ। যখনি কোন ন্যায্য দাবির আন্দোলন শুরু হয় তখন সেটার কিছু ভিত্তি থাকে এবং সেই অনুযায়ী ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলন ধীরে ধীরে গণআন্দোলনে রুপ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বেশ ক’টি আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছে যার মধ্যে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন উল্লেখযোগ্য। 

রমিজউদ্দিন ক্যান্টনম্যান্ট হাইস্কুলের দুই শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায়। শিশুদের এই রাজপথের অবস্থানে ভালো কাজের পাশাপাশি কিছু অপ্রীতিকর ঘটনারও জন্ম দিয়েছে যা আমরা সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মেইনস্ট্রিম নিডিয়াতেও দেখেছি। তবে আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ সড়কে যান চলাচলের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব নিয়ম আমাদের শিখিয়ে গিয়েছে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকার মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেবার পরেও তারা রাস্তা থেকে সরে যায়নি, তারপরেও সরকার শান্তিপূর্ণভাবেই সেই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে আসছিলো।

কিন্তু গত শনিবার থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তির হীণ-চক্রান্তের কবলে পড়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের দাবির সিংহভাগ দ্রুততার সাথে পূরণ হবার পরেও কারা এই সহিংসতায় মদদ দিয়েছে? আমরা কেউই তো শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলার পক্ষে না তবে কারা বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালানোর মত হীনকূটচাল সমীকরন এঁটেছিল? এর পেছনের কুশীলব কারা? তার বিস্তারিত উল্লেখ করার আগে আমি শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির প্রতি আলোকপাত করতে চাইছি।  

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি এবং সরকারের পদক্ষেপঃ 
১. বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। নিঃসন্দেহে এই দাবি তাদের আবেগের সাথে যায় কিন্তু একটি রাষ্ট্র চালানোর ক্ষেত্রে একজন সরকার প্রধানকে শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি শ্রমিকদের মতামতকেও প্রাধান্য দিতে হয়। আজ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে যদি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মানেই ড্রাইভারের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তবে রাস্তায় নামবে পরিবহন শ্রমিকেরা। ড্রাইভিং পেশা তখন আতংকের হবে কেননা দুর্ঘটনা ঘটে মৃত্যু হলেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এটা পরিবহন শ্রমিকের লাইফ থ্রেট হয়ে দাঁড়াবে। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য তখন ধর্মঘটের ডাক দেবে। এমন অবস্থায় জানমালের যে ক্ষতি হবে তাও হিসেব করতে হবে সরকারকে। তাই নিরাপদ সড়ক আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে হত্যা করলে মৃত্যুদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে মামলা হবে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায়। এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বর্তমানে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে। 

২. নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এই দাবি তাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনেই পূরণ হয়েছে। নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। যা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিরল এবং অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত।
   
৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে। এই দাবির প্রেক্ষিতে ফুটওভার ব্রিজ এর কাজ শুরু হয়েছে, নিশ্চয়ই গোটা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একদিনের মধ্যে এই ফুটওভার ব্রিজ দেয়া সম্ভব নয়। যেহেতু রমিজউদ্দিন নিয়ে ঘটনা তাই সেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য আন্দোলনের তৃতীয় দিনেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫টি বাস উপহার দিয়েছেন। 

৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে। এর কাজও শুরু হয়েছে, প্রাথমিকভাবে জেব্রা ক্রসিং করা হচ্ছে দ্রুততার সাথে।

৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। খুব যৌক্তিক দাবি এবং রমিজউদ্দিন স্কুলের দুই শিক্ষার্থীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভবনে ডেকে নিয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের দায়ভার নিয়েছেন। মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে পাশ হওয়া নতুন আইনে দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই দাবিটির ক্ষেত্রে বাস মালিকদের সচেতন হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সযত্নে তোলার কাজটি করতে হবে। এটা মানবিক জায়গা থেকে করতে হবে। 

৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক আগে থেকেই এই ব্যবস্থা চালু আছে কিন্তু তার কার্যকরিতা নেই খুব একটা। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বাসে উঠার পর শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে তাদের সাথে ঝগড়া করতে হয়। এই জায়গাটা নিরসন করতে হবে। 

৮. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না। এই দাবিটি আমাদের সবার প্রাণের একটি দাবি যা দীর্ঘদিন যাবত আমরা করে আসছি। অলরেডি এই দাবিটি নিরাপদ সড়ক আইনে সুন্দরভাবে এসেছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়ে নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে জনসমক্ষে কোনো গাড়ি চালাতে পারবেন না। এ ছাড়া গণপরিবহন চালানোর জন্য আলাদা অনুমতি লাগবে। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ এবং পেশাদার চালকদের লাইসেন্স পেতে বয়স ২১ হতে হবে। চালকের অপরাধের জন্য ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। তাঁর যেকোনো অপরাধের দোষসূচক পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট শেষ হলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল হবে। কোনো অপরাধীকে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। আর আগে দেওয়া হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহার করা হবে। বাসচালকের সহকারী লাইসেন্স ছাড়া গাড়িতে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তিত হলে তা ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। আর লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে অষ্টম শ্রেণি। ফিটনেস না থাকা মোটরযান চালালে আগে শাস্তি সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা রয়েছে। সেখানে এখন শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা। এ শাস্তি পাবে মূলত গাড়ির মালিক। তাই অনেকেই বলছেন গাড়ির মালিকের কোন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি তা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। 

৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। এই দাবিটির ক্ষেত্রে যতোটা না সরকারের প্রশাসন কাজ করবে তার চাইতে বেশি আমাকে আপনাকে কাজ করতে হবে। কেননা প্রত্যেক বাসে পুলিশ নিয়োগ দেয়া সম্ভব না তাই ট্রাফিক পুলিশে সেটা দেখার পাশাপাশি যাত্রী হিসেবে আমরাও হুড়াহুড়ি করে যেনো ভিড় না জমাই সেটার ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। 
এই ছিলো আন্দোলনের মূল দাবি। এবং উপরে উল্লেখিত এই ৯টি দাবির প্রতিটিই সরকার পূরণ করেছে বা করার আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাছাড়াও রাজধানীতে বাসের হুড়োহুড়ি থামাতে ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সাবেক প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে ৬টি কোম্পানির আওতায় আনতে যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আগামী বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা  হবে।  দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এ ব্যাবস্থা বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যাবস্থার অন্ধকার অনেকটাই কমে আসবে এবং বাসে বাসে অসুস্থ যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দুর্ঘটনা হয় সেটা আর থাকবেনা বলেই নগর পরিকল্পনাবিদেরা মনে করেন। 
 
কিন্তু তারপরেও আন্দোলনের প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হবার পর গত শনিবার রাজপথে এই ক্ষুধে শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে সহিংসতা ছড়িয়েছে একদল, যাদের পরিচয় এখন সবার সামনে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। এটিএননিউজ এর ক্যামেরাতে স্পষ্টভাবে ধরা পরেছে, একদল যুবক নিজেদের সিভিল ড্রেস চেঞ্জ করছে এবং স্কুল ড্রেস পরছে, তারপর ব্যাগে চাপাতিসহ ভিডিওতে ধরা পরেছে, এদেরকে আর যাই হউক শিক্ষার্থী আপনি বলতে পারবেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ধানমন্ডির কার্যালয়ে হামলার নেতৃত্ব কারা দিয়েছে সেখানেও ভিডিও ক্যামেরাতে ধরা পরেছে হামলাকারীদের চেহারা। এটিএননিউজ এবং একাত্তর তাদের ছবিসহ পরিচয় উন্মোচন করেছে। আব্বাস উদ্দিন নামের এক যুবক মিডিয়াতে সাক্ষাতকার দিচ্ছে যার পরিচয় মিলেছে অনুসান্ধানী রিপোর্টে। সাতকানিয়ার শিবির নেতা আব্বাস উদ্দিন যে সেখানকার তালিকাভুক্ত শিবির সন্ত্রাসী, তার সাথেই দেখা গিয়েছে আব্দুস সাত্তার নামের আরেক শিবির নেতাকে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ অফিসের সামনেই। আরেকজন ধরা পরেছে ক্যামেরাতে যার নাম রমিজ উদ্দিন পাটোয়ারি যে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও শিবিরের নেতা। এবং এদের সবাইকে সংগঠিত করেছে শিবির নেতা রাতুল সরকার যাকে সরাসরি সেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা গিয়েছে। মূলত এরকম শত শত কর্মীকে শিক্ষার্থীদের সাথে মিশিয়ে দিয়ে ক্ষুধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সহিংসতা এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনে রুপ দিয়েছে তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের ফোনালাপ থেকেও পাওয়া যায় তার স্পষ্ট বার্তা। আমরা দেখতে পাই শনিবার থেকে একের পর এক ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াতে থাকে অনলাইনে শিবির জামাত ও বিএনপি’র পেজ থেকে। আন্দোলনকে ভয়াবহভাবে উস্কে দিতে গুজব ছড়িয়ে পরে যে আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসে দুইজন ছাত্রের হত্যা এবং চারজন নারী নির্যাতনের ঘটনা। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার পরেও শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের দিকে চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ডেকে তাদের পার্টি অফিস চেক করতে বলেন। এবং শিক্ষার্থীরা পার্টি অফিসে গিয়ে সব দেখে তারা বিবৃতিও দেন যে, হত্যা এবং ধর্ষণের খবর ছিলো ভিত্তিহীন। তাও থামেনি গুজবের ডালপালা। ভুয়া সব ছবি দিয়ে হত্যা এবং নিপীড়নের ভিত্তিহীন বার্তা একের পর এক বাশেরকেল্লা থেকে আসতে থাকে যা পুরো পরস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তোলে। এই গুজবে তাল মেলান রঙ্গিন পর্দার অভিনেত্রীরাও যা ছিলো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। 

এদিকে এই আন্দোলন সম্পর্কে বিদেশী মিডিয়াতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আন্দোলনের ন্যায্যতার দিকে আলোকপাত না করে অনেকেই সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যা ছিলো অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।  এখনো থেমে নেই সেই গুজব, তাই গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য সবাই শেয়ার করুন। এদিকে সেই আন্দোলন সম্পর্কে এখন বেড়িয়ে আসছে আরো অনেক তথ্য। গত শনিবার এটিএননিউজের ক্যামেরায় শিবির নেতাদের উপস্থিতির পর খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছে শিবিরের শিশু বাহিনী, সাংস্কৃতিক বাহিনী এবং সাহিত্য বাহিনীও। ফুলকুঁড়ির সদস্যরাও সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছে যা সুন্দর একটি আন্দোলনকে মুহূর্তেই ভয়াবহ করে তুলেছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়ে ঘরে ফিরলেও হঠাত করে আমরা দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নামে একদল রাস্তায় নামে।  সোমবার মন্ত্রী পরিষদ মিটিংয়ে ‘নিরাপদ সড়ক পরিবহন আইন’ পাশ হলেও এর পরদিন বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা কারণে প্রতিবাদ মিছিল হয় এবং কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। মূলত শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে একদল ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নে বিভোর, ফলশ্রুতিতে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এমন অবস্থায় সরকার হার্ডলাইনে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাই সকলের উদ্দেশ্যেই বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের একটি সফল আন্দোলনে যারা কালিমা লেপন করেছে , সকল দাবি মানা সত্ত্বেও  যারা গুজব রটিয়ে শিক্ষার্থীদের সুন্দর একটি আন্দোলনকে বিপথে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছে, ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করে যারা নিজেদের ক্ষমতায় নেবার স্বপ্ন দেখেছে তাদেরকে চিনে রাখতে হবে, তাদের পরিচয় উন্মোচন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হবার পরেও যারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপথে থেকে দেশের পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইছে তাদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান জারি রাখার আহবান জানাচ্ছি সরকারের প্রতি। ন্যায্য দাবির আন্দোলনের মাধ্যমেই আজকের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত তাই গণদাবিকে কখনোই উপেক্ষা করার স্পর্ধা আওয়ামী লীগ দেখায় না। কিন্তু দাবি পূরণ হবার পরেও যারা শিক্ষার্থী নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে তাদের ক্ষেত্রে সময়োচিত সিদ্ধান্ত নেবার সময় এখন এসেছে। ন্যায্য দাবির আন্দোলন অব্যাহত থাকুক, মানুষ তার নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন হোক।

লেখক: তরুণ রাজনীতিক এবং সমাজকর্মী।  


বিডি প্রতিদিন/১১ আগষ্ট ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow