Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:১৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৬:৪৪
চট্টগ্রামের মেয়রের মন্ত্রী পদমর্যাদা এখন কি প্রাপ্য নয়?
হাসিনা আকতার নিগার
চট্টগ্রামের মেয়রের মন্ত্রী পদমর্যাদা এখন কি প্রাপ্য নয়?

নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে সরব আওয়ামী লীগ। আগামী সপ্তাহে হয়ত নতুন মন্ত্রী পরিষদ পাবে দেশ। হ্যাটট্রিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতায় এসেছে শেখ হাসিনার সরকার। আর সে কারণে আগামী দিনে জনগণের চাওয়া পাওয়ার প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে এ সরকারের কাছে।

এ অবস্থায় দলের সকল পর্যায়ে নেতা কর্মী সর্মথকদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হতে হবে সাবধানী। ক্ষমতার ভার সইতে গিয়ে মনে দাম্ভিকতা আসলে বিপদের শঙ্কা থাকে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলে অভ্যন্তরীণ কোন কোন্দল যেন মাথা চাড়া দিয়ে না উঠে তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি থাকবে আঞ্চলিক সংগঠনের প্রধানদের। আর এ কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলবদ্ধভাবে কাজ করার ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখতে হবে। 

এবারের নির্বাচনে চট্রগ্রামের আওয়ামী রাজনীতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এখানকার রাজনীতির সাংগঠনিক কাঠামোতে এক ধরনের জটিলতা প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে আলোচিত হয়ে আসছিল দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু সব আলোচনার অবসান ঘটিয়ে সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দিন নেত্রীকে চট্টগ্রামের সব আসন উপহার দিতে কাজ করেছেন নিরলসভাবে। সকল ধরনের বিরোধকে উপেক্ষা করে তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রতিটি আসনের জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন। যার কারণে এখানে বিএনপির বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতার ভরাডুবি পরাজয় হয়েছে কল্পনাতীতভাবে। যার জন্য মেয়রসহ দলের নিবেদিত নেতা কর্মীরা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
      
আওয়ামী সরকারকে চট্টগ্রামের মেগা প্রজেক্টকে যথাসময়ে বাস্তব রূপ দিতে হবে। চলমান এই প্রক্রিয়াতে মেয়র আ জ ম নাসিরের দায়িত্বভার অনেক বেড়ে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজের পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডকে সুশৃঙ্খল রাখতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে নির্বাচনে তিনি সুনিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আর নগরবাসীকে সুনিশ্চিত জীবন দিতে একইভাবে কাজ করবেন এ প্রত্যাশা সকলের।     
 
সবকিছু বিবেচনার পর যে বিষয়টি চট্টলাবাসীকে বেদনাহত করে তা হলো, এখানকার মেয়র হিসাবে আ জ ম নাসির উদ্দিন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাননি এখনো। কিন্তু ঢাকার পর চট্রগ্রাম দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর। আর সে কারণে বর্তমান সিটি মেয়রের কাজের পরিধি, দায়িত্ব অনেক বেশি।

সরকার এ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ উন্নয়নমূলক নানা প্রকল্প সমূহ পরিচালনা করছে সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএয়ের মাধ্যমে। এ শহরের জনগণ জলাবদ্ধতা, রাস্তা ঘাটের দুর্ভোগ উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় বসিয়েছে আগামী দিনের চট্রগ্রামকে সুন্দর নগরী হিসেবে দেখার জন্য। আর সে আস্থার জায়গা থেকে চট্টগ্রামের সিটি মেয়রকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেয়া তাদের ন্যায্য চাওয়া। কারণ এ সম্মান যে শুধু ব্যক্তি আ জ ম নাসির উদ্দিনকে  উজ্জীবিত করবে তা কিন্তু নয়। বরং সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে শহরবাসী নিজেদের অবস্থান থেকে হবে প্রেরণার উৎস।

লেখক- কলামিস্ট

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow