Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৬ ১৪:২৭
রেমিটেন্স যোদ্ধা আমিনা
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, কুয়েত

রেমিটেন্স যোদ্ধা আমিনা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মেয়েদের মত কোন অংশে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের নারীরা। শুধু শহরের মেয়েরা নয়, অজপাড়া গাঁয়ের মেয়েরাও এখন এগিয়েছে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

জীবন সংগ্রামে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেনে। একই সাথে স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান অধিকারে নিজেকে সংসারের জন্য বিলিয়ে দিচ্ছেন। সংসারের পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রেখেছে সাফল্যের ছাপ। এ সাফল্য শুধু একটা জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশে এবং বিদেশে উভয় জায়গাতেই সমানভাবে সমাদৃত। এমনই এক সফল নারী রেমিটেন্স যোদ্ধা কুয়েত প্রবাসী আমিনা  আক্তার।  

আমেনা আক্তার রেনু ১৯৭৩ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার নব কলশ গ্রামের মোল্লা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম এম এ আওয়াল মাতা মরহুমা সুর্জাহান। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সবে মাত্র হাইস্কুলে ভর্তি হন, সে সময় ঢাকা বড় ভাই সিরাজুল ইসলামের বাসায় চলে আসেন। ভাইয়ের বাসায় থাকা অবস্থায় পরিবারে পছন্দের পাত্র মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার দামলা গ্রামের মিয়া বাড়ির মরহুম আজহার মিয়ার ষষ্ঠ সন্তান একে এম আরিফ এর সাথে বিয়ে হয়।

১৯৯০ সালে জুলাই মাসে স্বামীর সাথে কুয়েত প্রবাসীর খাতায় নাম লেখান, শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। অনেকের মত শুধুমাত্র গৃহবধূর সারিতে থাকেননি। স্বামীকে সহযোগিতা করার কথা চিন্তা করে স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কর্মে যোগ দেন। একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে দীর্ঘ এক বছর কাজ করার পর অন্যদের মত ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে কুয়েতে স্বনামধন্য আমেরিকানা ফুডস্টাফ কোম্পানি কেএফসিতে কুক সহকারী হিসেবে যোগ দেন। মিসরীয়, ইন্ডিয়ান ও ফিলিপিনোদের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করেন। সেই সময়কার কথা স্মরণ করে বলতে গিয়ে অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে জানান কর্মজীবনের অনেক কষ্টের কথা। এরই মধ্যে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কিছুটা আরবি শিখেছিলেন আর ইংলিশ কিছুটা বুঝতে পারলেও উত্তর দেয়ার ক্ষমতা ছিল না তখন। ভাষাগত সমস্যার কারণে দায়িত্বরত সুপারভাইজার ও ম্যানেজারদের কাছ থেকে কটূক্তি শুনতে হয়েছে। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রমী হওয়ায় কোম্পানির মালিক থেকে শুরু করে সুপারভাইজার, ম্যানেজার সবার কাছে পছন্দের কর্মী হয়ে ওঠেন। দুই বছর কাজ করার পর কোম্পানিতে স্থায়ী নিয়োগের সময় হলে আকামা পরিবর্তেনে সমস্যার কারণে ওই কোম্পানি নতুন করে ভিসা দেয়, সেই ভিসা নিয়ে কেএফসিতে যোগ দেন। এই কোম্পানিতে একমাত্র বাংলাদেশি নারী আমিনা যাকে কোম্পানি ভিসা দিয়ে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ সময়ে কর্মজীবনে সৎ নিষ্ঠা আর কঠোর শ্রমের কারণে কোম্পানি কর্তৃক পেয়েছেন সম্মাননা। কোম্পানির সবার কাছে মামা আমিনা (মা আমিনা) উপাধি পান।  

বর্তমানে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে মোহাম্মদ আহাদ তুর্জয় (২০) ও মেয়ে আফরিন রাশা (৯) কুয়েতে আল আমান ইন্ডিয়ান স্কুলের শিক্ষার্থী। ছুটির দিনে তিনি কুয়েত প্রবাসীদের আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন মেলায় নিজ তৈরি পিঠা পায়েস নিয়ে হাজির হন। সামাজিকভাবে স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক সংগঠন থেকে পেয়েছেন পুরস্কার ও সম্মাননা। স্বামী আরিফ একটি কোম্পানিতে চাকুরি করছেন। তিনিও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করেন কারণ জীবন যুদ্ধে প্রত্যেকটা কাজে তাঁর স্ত্রীকে সাথে পেয়েছেন। স্ত্রীকে নিয়ে গর্ব করেন আরিফ।  

 


বিডি-প্রতিদিন/ ১৮ জুন, ২০১৬/ আফরোজ

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow