Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:১৯
হার্ভার্ডে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
হার্ভার্ডে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে সম্মেলন

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের উচ্চারিত হলো যে, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের জন্যে বাংলাদেশকে আরও কিছু অগ্রগতি দেখাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ে দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমদানিকারকদের প্রতিও সদয় হবার আহ্বান জানানো হয়। এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার।  

হার্ভার্ড ল’ স্কুলের ওয়ালশ হলে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ‘লেবার এ্যান্ড ওয়ার্ক লাইফ প্রোগ্রাম’ এবং বোস্টনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’ (আইএসডিআই)’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মলনে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারক, ব্র্যান্ড ও বিক্রেতা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও দাতা সংস্থা এবং  শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।  

দিনব্যাপী সম্মেলনে চারটি সেশনে আলোচনা করা হয়। এগুলো হলো: 

১.‘কমপ্লায়েন্স মেনে পোশাক রপ্তানি’।

২. ‘পোশাকের ন্যায্য দাম নিশ্চিতকরণ এবং তাতে ক্রেতা-বিক্রেতার যৌথ দায় নিশ্চিতকরণ’।  

৩. ‘বাণিজ্য নীতি, শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মপরিবেশ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’,  ‘পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন কৌশলের অপরিহার্যতা’।

৪. ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প : ২০২১ সালের মধ্যে ৫ হাজার কোটি ডলার অর্জনের রূপকল্প’।

সম্মেলনে মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার পোশাক-শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এসব পদক্ষেপকে আরও বলিষ্ঠ করতে পাশ্চাত্যের আমদানিকারকদের এবং উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা রয়েছে। ’ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ সকল পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সকল বাধা অপসারণে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।  

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা এমি ম্যাকগেন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে আরও কাজ করতে হবে। ’

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ইয়েভজেনিয়া শেভচেঙ্কো বলেন, ‘উচ্চমূল্যের কারণে চীনের পোশাক রপ্তানি কমলে বাংলাদেশের জন্য  তৈরি পোশাক খাতে বিশাল সুযোগ তৈরি হবে এবং পণ্যের দাম, মান, সময় ও কারখানার কর্মপরিবেশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এই সুযোগ নিতে পারে। ’

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী  পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারক, আমদানিকারক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা একমত হন যে, ‘বিগত বছর গুলোতে  তৈরি পোশাক খাতে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে, তবে এ  খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা মান উন্নয়নে সরকার ও মালিকপক্ষের বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে পোশাকের ন্যায্য দাম নির্ধারণ জরুরি। ’

‘সস্তায় পোশাক কেনার চিন্তা করে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি করা যায় না এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশের তৈরী  পোশাকের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে’ বলে বিশেষজ্ঞরা  মত প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মলনের আয়োজনে সহায়তা করেছে বিজিএমইএ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। সমন্বয় করেছেন আইএসডিআই’র নির্বাহী পরিচালক এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের কর্মকর্তা ইকবাল ইউসুফ।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow