Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫৫
আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫৮
জাতিসংঘে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আলোচনায় মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে
জাতিসংঘে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আলোচনায় মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ 'কোন ধর্মই সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থাকে সমর্থন করে না' এ বিষয়টি জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক এক মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

'সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা মোকাবেলায় জাতিসংঘ কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে'- তা অনুসন্ধানে ওই আলোচনার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ, নরওয়ে ও জর্ডানের সম্মিলিত উদ্যোগে ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ আরও বলেন, সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম বা জাতি নেই। সন্ত্রাসীর পরিচয় সে শুধুই সন্ত্রাসী। আমি সারা জীবন ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিবেদিত করেছি। ইসলাম শান্তি, ন্যায় ও সহনশীলতার ধর্ম। ইসলাম জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদকে কখনও সমর্থন করে না। আমি বেদনাহত হই যখন দেখি ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার মত ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জঙ্গী, সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সফলভাবে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ দমন করছে। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গী ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠী যাতে বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়তে না পারে তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সবসময়ই সন্ত্রাস ও মৌলবাদের পরিপন্থী। দেশের আলেম-ওলামাসহ সকল স্তরের মানুষ সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে। মৌলবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নকে সরকার আরও শক্তিশালী করেছে।

প্যানেল আলোচনায় অন্যান্যের মাঝে আরও অংশ নেন নরওয়ের উপ-মন্ত্রী লায়লা বুখারী, জাতিসংঘে নিযুক্ত জর্ডানের স্থায়ী প্রতিনিধি সীমা সামি বাউজ, জাতিসংঘের কাউন্টার টেরোরিজম ইমপ্লিমেন্টেশন টাস্ক ফোর্স (সিটিআইটিএফ) এর পরিচালক জাহাঙ্গীর খান এবং নরওয়ের খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার দিয়া খান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এটাই জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা বিরোধী প্রথম আলোচনা অনুষ্ঠান। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এ আলোচনায় অংশ নেন এবং চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠান শেষে মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ দেশের এক লক্ষ মুফতি, উলামা ও আইম্মার দস্তখত সম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতওয়া নরওয়ের উপ-মন্ত্রী লায়লা বুখারীর নিকট হস্তান্তর করেন।  

বিডি প্রতিদিন/২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow