Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৩ জুন, ২০১৬ ২০:২০
হার্টের জন্যে উপকারী হাতের কাছের আদা রসুন
লুৎফুন নাহার লতা, নিউইয়র্ক
হার্টের জন্যে উপকারী হাতের কাছের আদা রসুন

জি এন সি নামে একটি ভাইটামিন শপে ক্লোরোফিল ক্যাপসুল খুঁজছিলাম। নাম লতা হলে কি হবে পাতার মত সূর্যের আলো দিয়ে ক্লোরোফিল তৈরি করতে পারি না। বৃক্ষের গুণাগুণ হয়ত কিছুটা পেয়েছি কিন্তু জীবনের ক্লোরোফিল সেখানে খুব জরুরি। রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী'র মত আমার পজেটিভ নন্দিনী মন সেই অভাব পূরণ করেছে আজীবন। আমার আনন্দে বেঁচে থাকাই সকল শক্তির উৎস ছিল। আজ কিছুদিন একটা মানসিক ট্রমা কেমন যেন অবসাদে ভরে তুলছে। দেশ দেশ করে এই রোগে ভুগছি আমরা অগুনতি মানুষ। প্রতিদিন রক্তপাত প্রতিদিন হত্যা ধর্ষণ সরকারকে আনস্টেবল করার পাঁয়তারা আর সরকারে যারা আছেন তাদেরও অসভ্যতা আর নেয়া যাচ্ছে না। এসব নতমুখে মেনে নেয়া সভ্য সমাজের জন্যে অসম্ভব। হয়ত সেকারণেই এই অবসাদ।

জি এন সি স্টোরের পিছনের দিকের আইল থেকে হেটে এলেন টান টান লম্বা চওড়া কার্লি কার্লি চুলের এক সুন্দরী আফ্রিকান ফিচারের ভদ্রমহিলা। এসেই দেখিয়ে দিলেন সঠিক আইল যেখানে অন্যান্য ভাইটামিনের সাথে ওটাও রয়েছে। শুনেছি সিনামন পাউডার। কালিজিরা তেল আর মধু দিয়ে মেড়ে খেলে সাথে একটা ক্লোরোফিলও খেতে হবে অবসাদ দূর করতে হলে। আমি তাকে বুঝিয়ে বলে পরামর্শ চাইলাম হার্টের জন্যে এটা কতটা ভাল সে ব্যাপারে।  

আমি চিরদিন কান্ট্রি ডক্টরস রেমেডিতে বিশ্বাস রাখি। কেমিক্যালস আর সার্জারি থেকে আমার মন বহু দূরে থাকে। আমার নানী আমাদের কান্ট্রি ডক্টর ছিলেন। জন্ম থেকে বহু ছোটখাট চিকিৎসায় আমার নানী এবং মাকে দেখেছি সমাধানের উপায় বলে দিতেন।

তেমনি আজ এই স্টোরে দাঁড়িয়ে এই অসাধারন শ্যামলা সুন্দরী আমাকে একটা নতুন প্রাকৃতিক ওষুধের কথা বললেন, যা একজন ইন্ডিয়ান ভদ্রলোককে ওপেন হার্ট সার্জারি থেকে বাঁচিয়েছে। সার্জারির ভয়ে আমেরিকা থেকে ইন্ডিয়ায় ফিরে গিয়ে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপদেশে ভদ্রলোক তিন মাস এই ভেষজ খেয়েছেন এবং পর্যাপ্ত ঘুম, তেল ছাড়া খাবার আর প্রাতঃভ্রমণ করেছেন প্রতিদিন একঘন্টা। আমেরিকাতে ফিরে এলে ওনার ছেলে মেয়েদের জোরাজুরিতে আবারও এনজিওগ্রাম করে দেখেছেন, ডাক্তাররা আর্টারিতে আর কোন ব্লক খুঁজে পাননি।  

ভদ্রমহিলা তখনো কিন্তু বলছেন না রেসিপিটা কি! আমি তো অস্থির হয়ে উঠলাম জানার জন্যে যেমন এই মুহূর্তে আপনাদেরও হচ্ছে। হ্যাঁ বন্ধুরা আমিও খেতে শুরু করেছি। বিশ্বাস করুন হলফ করে বলছি ইট ওয়ার্ক্স। ইট ডাজ। অবাক হয়ে অনুভব করছি এক অলৌকিক পরিবর্তন। আগে আমি এক দৌড়ে তিনতলায় উঠতাম, কিছুদিন হল তিনবার থামতে হয়। আজ দু'দিন কিন্তু সেই কষ্টটা কমে গেছে। এমন ধন্বন্তরি ওষুধ আর হয় না।

এবার বলি, এক কাপ রসুন, এক কাপ আদাকুচি, অল্প পানিতে সেদ্ধ করে নিন। এক কাপ মধু আর দুই কাপ আপেল সাইডার ভিনিগার দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। হয়ে গেল মজাদার জিঞ্জার সস। কাচের মুখবন্ধ জারে করে ফ্রিজে রেখে দিন। এইবার সকালে দুই চামচ, রাতে এক চামচ খান, ব্যাস আর ভাবনা নেই। খেতেও কিন্তু সস বা আচারের মতই লাগে।  

এতে আর্টারি ব্লক খুলতে সাহায্য করে। ব্লাড ভেসেলসগুলো প্রসারিত হয়। ব্লাডপ্রেশার কন্ট্রোল থাকে। ওজন কমে আর বুকের ভেতর চাপ ধরা কষ্ট কমে যায়। বন্ধুরা মনে রাখতে হবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার কিন্তু কিছু বেসিক শর্ত আছে, সে হল পরিষ্কার থাকা, পরিমিত আহার, উত্তম নিদ্রা, শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও ধ্যান ( মেডিটেশান)। সবাই ভাল থাকুন। সবার হৃদয়ে আনন্দ জেগে থাক। মঙ্গল হোক।

যেকথা বলা হয়নি সে হল ওই আফ্রিকান ফিচারের লম্বা শ্যামলা সুন্দরী আমাদের বাংলাদেশের মেয়ে। নাম ফরিদা। আমিও সেকথা যেমন গল্পের শেষে জেনেছিলাম আপনাদেরকেও তাই জানালাম। উনার কল্যাণ হোক।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ২৩ জুন, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow