Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০
মফিজের ঈদ শপিং
চিরতার রস
মফিজের ঈদ শপিং

মফিজ ভাই এমনিতেই একজন ঝামেলাগ্রস্ত মানুষ। সব সময়ই সে কোনো না কোনো একটা ঝামেলায় পড়ে থাকে। আর সে তার প্রবলেমগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করে বোধকরি বিশেষ আরাম পান। চরম অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে তার কথাগুলো শুনতে হয়। আজ তাকে একটু বেশিই দুর্দশাগ্রস্ত মনে হচ্ছে। আমি মোটামুটি শিউর আজ আমাকে একটা লম্বা সমস্যার কথা শুনতে হবে এবং সমস্যার সমাধান ও আশু পদক্ষেপ বের করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাতে হবে।

: চায়ের অর্ডার দিছেন মফিজ ভাই?

: আরে ভাই, চা খাইয়া আর কি হইব?

: হু। কথা সত্য। চা খাইয়া কিছুই হইব না। চা খাইলে টেনশন কমে এমন কিছু কোথাও শুনি নাই। তবে সিগারেট খাইলে নাকি টেনশন কমে। আপনে সিগারেট ট্রাই কইরা দেখতে পারেন।

: ধুর ভাই, মশকরা কইরেন না। বিরাট সমস্যায় আছি।

: সমস্যা কি গুরুতর?

: হু।

: খুলে বলেন শুনি।

: আপনের ভাবির কথা তো আগে আপনাকে বলছিলাম। শপিং করতে খুব পছন্দ করে। শপিংয়ে গেলে কম করে বিশ-পঁচিশটা দোকান ঘুরে একটা ড্রেস কিনবে। তার কথা শুনে আপনিও শিউর হবেন যে সে মার্কেটের সেরা ড্রেসটাই কিনেছে। এমন সেরা সেরা ড্রেস তার আলমারিতে কম করে হলেও ১৫ থেকে ২০ সেট আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সে প্রায়ই বলে আমার একটাও ভালো ড্রেস নাই। তুমি আমাকে একদমই শপিংয়ে নিয়ে যাও না।

মফিজ ভাইয়ের কথায় আমার সঙ্গে সঙ্গে আরও দু'তিনজনের ৩২টা করে দাঁত দেখা গেল।

: আপনেরা হাসতেছেন ভাই। আর আমি আছি মহা যন্ত্রণায়। রোজার শুরুতেই তারে একটা দামি শাড়ি কিনে দিলাম ঈদ উপলক্ষে। এই শাড়ি নাকি এবারই মার্কেটে নতুন আসছে। ইউনিক পিস। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে দাম দিয়ে শাড়িটা কিনে দিলাম। সে বলল, থ্যাংকু। তোমাকে আর ঈদের আগে কিছু কিনে দিতে বলব না।

কিন্তু না, গত সপ্তাহে আবারও ঘ্যানঘ্যান শুরু। তার বান্ধবী সবাই নাকি কি না কি ড্রেস কিনছে। সে না কিনলে তার ইজ্জত থাকে না। তাই তার ইজ্জত রক্ষার্থে সেটাও কিনে দিলাম। কিন্তু মজার বিষয় কি জানেন। সেই ড্রেস কিনতে গিয়েও তার আগে দশ-বারোটা দোকান ঘুরে দেখেছে, পাছে আবার আরও ভালো কিছু মিলে যায়!

মফিজ ভাইয়ের কথায় আমরা আবারও আমাদের দুই পাটি দাঁতের উপস্থিতি জানান দিলাম।

তিনি দুঃখী চেহায়ায় বললেন, এইখানেই শেষ না রে ভাই। আজ ইফতারির সময় বলতেছে তার নাকি টুকটাক কিছু কেনা বাকি আছে। আমি বললাম কি কি? সে চেয়ার এগিয়ে আমার কাছে এসে বলল, এই আরকি, জুতা, কিছু জুয়েলারি, অল্প কিছু কসমেটিক্স আর তোমার জন্য একটা পাঞ্জাবি। আমি বললাম আমার পাঞ্জাবি কেনা লাগবে না। গত ঈদেরটাই এখনো নতুন আছে। মাত্র দুই তিন দিন পরছিলাম। ওটা দিয়েই চালিয়ে দেব। সে শঙ্কিত হয়ে বলল, কি আশ্চর্য, তুমি ঈদে কিছু কিনবা না? এটা কি হয়? তাছাড়া তোমার গত ঈদের পাঞ্জাবি তো নীল রঙের। আমার তো তাহলে ম্যাচিং করে আবার নীল শাড়ি কিনতে হবে।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow