Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুন, ২০১৬ ২১:৩৭
খোঁড়াখুঁড়ি চলছে চলবে...
ইকবাল খন্দকার
খোঁড়াখুঁড়ি চলছে চলবে...
কার্টুন : কাওছার মাহমুদ আইডিয়া : তানভীর আহমেদ

বাসার পাশের যে দোকান থেকে আমি সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে থাকি। এমনিতে এই দোকানে তিনজন কর্মচারী। কিন্তু আমি গিয়ে পেলাম একজনকে। এই একজনের পক্ষে কাস্টমারের ভিড় সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না। আমাকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। এক সময় বিরক্ত হয়ে বললাম, তুমি একা কেন? আর লোকজন কই? ছেলেটা হেসে বলল, স্যার, আপনে যাদের খুঁজতেছেন, তারা তো আপনের পিছনেই দাঁড়ানো আছে। আমি আচমকা ঘাড় ঘোরালাম। দেখি ঠিকই এই দোকানের দুই বিক্রেতা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে বললাম, এ কী! তোমরা দোকান ছেড়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছ কেন? দোকান থেকে কি মালামাল চুরি হয়? বাইরে দাঁড়িয়ে চোর ধরার চেষ্টা করছ? কমবয়সী ছেলেটা বলল, আপনে যা মনে করতেছেন তা না। ভালো কইরা তাকায়া দেখেন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়া দোকানের সামনে কত বড় গর্ত করছে। একটু আগে এক কাস্টমার পইড়া গেছিল গর্তে। পইড়া তো মনে করেন যে পানি টানি খাইয়া নাজেহাল অবস্থা। তার পেট থেইকা পানি বাইর করতে হইছে, তারে গোসল করানোর ব্যবস্থা করতে হইছে, আরও কত ঝামেলা! তাই আর যাতে কোনো কাস্টমার এই গর্তে পইড়া ঝামেলা বাড়াইতে না পারে, তাই খাড়ায়া খাড়ায়া পাহারা দিতাছি। পরশুদিন রিকশায় মগবাজার থেকে মালিবাগের দিকে যাচ্ছি। কিন্তু রিকশার সিটে বসে আরাম পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল সিটটা ঠিকমতো বসেনি। কেমন বাঁকা হয়ে আছে। আমি ধরে নিলাম সিটটা যখন তৈরি করেছিল, তখন থেকেই বোধহয় এ সমস্যা। তাই কোনো রকমে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন বুঝলাম এভাবে খুব বেশি সময় বসে থাকা সম্ভব না, তখন রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার সিটের অবস্থা এমন কেন? কেমন বাঁকাত্যাড়া। নড়বড়ে। মনে হয় ঠিকমতো বসেনি। রিকশাওয়ালা বলল, ক্যামনে বসবো কন! সিটের নিচে বদনা রাখলে সিট বসে? আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, সিটের নিচে বদনা রেখেছ কেন? রিকশাওয়ালা বলল, বদনা না রাইখা কী করমু কন? দুদিন আগে এই রাস্তা দিয়াই যাইতেছিলাম। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলতেছিল। এ সময় কিছু কাদা ছিট্টা আইসা আমার জামা-কাপড় বিনাশ কইরা দিল। আমার গোসল করা জরুরি হইয়া পড়ল। খোঁড়াখুঁড়ি কিন্তু এখনো চলতাছে। তাই আবার কাদা ছিটলে যাতে আরামসে গোসলটা কইরা নিতে পারি, এজন্য লগে বদনা রাখলাম। ‘এশ্টা’ লুঙ্গিও কিন্তু একটা আছে। আমি বিশেষ কিছু না বলে দুই হাতে হুডের দুইপাশ শক্ত করে ধরে বসে থাকলাম। গন্তব্যে পৌঁছে বললাম, এই রাস্তাটার অবস্থা একটু বেশিই খারাপ। তুমি এই এলাকায় রিকশা না চালিয়ে অন্য এলাকায় চলে গেলেই তো পার। তাহলেই তো আর বদনা বা এক্সট্রা লুঙ্গি নিয়ে বের হতে হয় না। রিকশাওয়ালা বলল, আমি কিন্তু আগে আরেক এলাকায় রিকশা চালাইতাম। ওই এলাকার রাস্তা ম্যালাদিন ধইরা খুঁইড়া রাখছে। এই গর্তের ভিতরে বইসা বিরাট বিরাট ব্যাঙ যখন ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর কইরা ডাকে, তখন কেমন জানি লাগে। আমি আবার ব্যাঙের ডাক পছন্দ করি না। এই বছর বৃষ্টির মৌসুম শুরু হতেই এক দিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নাখালপাড়া রওনা হলাম। খুব জরুরি কাজ ছিল, তাই বৃষ্টি থামার জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। ফার্মগেট গিয়ে ওভারব্রিজের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাওয়ালাদের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম নাখালপাড়া যাবে কিনা। কোনো উত্তর পেলাম না। পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলাম, সেও কোনো উত্তর দিল না। এবার পাশ থেকে অন্য এক রিকশাওয়ালা আগ বাড়িয়ে বলল, তাগোরে সাধাসাধি কইরা লাভ নাই। তারা সাঁতার জানে না। গেলে আমার লগে চলেন। আমি ভালো সাঁতার জানি। আমি বললাম, সাঁতার জানতে হবে কেন? রিকশাওয়ালা বলল, রাস্তায় বড় বড় গর্ত করছে। পইড়া গেলে সাঁতরায়া উঠতে অইবো না?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow