Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২৩:১৩
শপিং আতঙ্ক
ইকবাল খন্দকার
শপিং আতঙ্ক
কার্টুন : কাওছার মাহমুদ আইডিয়া : তানভীর আহমেদ

ঘুম ভাঙল আমার এক বড় ভাইয়ের ফোনে। আমি মোবাইল কানে চেপে ধরে ঘুমঘুম গলায় বললাম, বলেন ভাই। বড় ভাই বললেন, তুই না কিছুদিন আগে বলেছিলি আবহাওয়া অফিসের একজনের সঙ্গে নাকি তোর ভালো পরিচয় আছে? আমি বললাম, কী জানি, মনে নেই। যাই হোক, আপনি বলেন সমস্যা কী। বড় ভাই বললেন, সমস্যা বিশেষ কিছু না। আবহাওয়া অফিসের কারো সঙ্গে পরিচয় থাকলে তুই এখনই একটু ফোন করে জিজ্ঞেস কর আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে ঝুম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা। এই মুহূর্তে আমার বৃষ্টি খুব দরকার। আমি অবাক হয়ে বললাম, আপনার দরকার বৃষ্টি! আপনি না বৃষ্টিকে যমের মতো ভয় পান? বৃষ্টিতে ভিজলেই না আপনার হাঁচি কাশি শুরু হয়? জমিয়ে জ্বর আসে? বড় ভাই বললেন, আমি জ্বরই আনতে চাচ্ছি। যদি বৃষ্টি আসে, তাহলে ঘড়ি ধরে এক ঘণ্টা ভিজবো। আমি বললাম, স্বেচ্ছায় জ্বর আনতে চাওয়ার কারণ? বড় ভাই বললেন, গতকাল আমি চাল রাখার ড্রামের ভিতর লুকিয়েছিলাম। তোর ভাবি আমাকে সেই ড্রামের ভিতর থেকে বের করে শপিংয়ে নিয়ে গিয়েছিল। ঈদের যে কদিন আছে, প্রতিদিনই নিয়ে যাবে। তাই জ্বরটা খুব দরকার। জ্বরের রোগীকে অন্তত শপিংয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাবে না। শপিংপাগল বউয়ের স্বামীদের দিনকাল এখন কেমন যাচ্ছে, নিশ্চয়ই খানিকটা আঁচ করতে পেরেছেন? যারা পারেননি, তাদের জন্য আরেকটা ঘটনা বলি। সপ্তাহ খানেক আগে আমার এক বন্ধুকে জরুরি একটা কাজে ফোন দিলাম। কিন্তু সে ধরল না। আমিও নাছোড়বান্দা। একটানা ফোন দিয়েই চললাম। অষ্টমবারের মাথায় রিসিভ করল। আমি ঝাড়ি দিয়ে বললাম, কীরে নবাবজাদা, ফোন ধরিস না কেন? বন্ধু আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল, তোর জানামতে বাচ্চাদের কাঁথা পরিষ্কার করার ভালো সাবান বা ডিটারজেন্ট পাউডার আছে? আমি মুখ বিকৃত করে বললাম, কী! বন্ধু একই প্রশ্ন আবার করল। আমি বললাম, বাচ্চাদের কাঁথা পরিষ্কারের সাবান ডিটারজেন্টের খবর দিয়ে তুই কী করিস? বন্ধু বলল—দোস্তরে, তোর ভাবি আমাকে শপিংয়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি বলেছি তোমার সঙ্গে শপিংয়ে যাওয়ার চেয়ে সহজ কাজ দুনিয়ার সবই। শপিংয়ে আমি যাবো না তো যাবই না। প্রয়োজনবোধে বাসায় বুয়ার কাজ করব। ব্যস, সে কাজের মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে শপিংয়ে চলে গেল আর আমাকে লাগিয়ে দিয়ে গেল কাঁথা ধোয়ার কাজে। কাঁথা ধোয়া শেষ হলে ঘর মোছার কাজটাও করতে হতে পারে। সেদিন কারওয়ানবাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে আমার এক প্রতিবেশীকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, এখানে কী করছেন? প্রতিবেশী বললেন, একটা জিনিস খুব পছন্দ হয়েছে। তাই দেখছি। যদি টাকা থাকতো, তাহলে কিনে নিয়ে যেতাম। প্রতি ঈদের সময় কাজে লাগাতাম। আমি বললাম, জিনিসটা কী বলেন তো! প্রতিবেশী আঙুল দিয়ে ইশারা করে বললেন, ঐ যে, ঐটা। আমি বললাম, এইটা তো ক্রেন। ভারী ভারী জিনিস ওঠানো হয় ক্রেন দিয়ে। প্রতিবেশী বললেন, আমিও তো ভারী জিনিস ওঠানোর জন্যই কিনতে চাচ্ছি। শপিংব্যাগের ওজন কি কম? সেদিন এক শপিংমলের গেটের চেকপোস্টে বেশ হট্টগোল লক্ষ্য করা গেল। কী হয়েছে জানার জন্য এগিয়ে গেলাম। বুঝতে পারলাম এক কাস্টমারের ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু একটা পাওয়া গেছে। সে জিনিসটা নিয়ে শপিংমলের ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। তাই তাকে গেটে আটকে দেওয়া হয়েছে। একজন বলল, তার ব্যাগটা খুলে দেখা হোক ভেতরে কী আছে। পাশ থেকে আরেকজন বলল, আরে না, দেখা দরকার নেই। বোম টোমের সঙ্গে বিশ্বাস নেই। যদি ফেটে যায়? এবার সন্দেহভাজন লোকটা তার ব্যাগ খুলতে খুলতে বলল, ধুর মিয়া, আমার ব্যাগে তো প্লাস্টিকের জলচৌকি। বউয়ের পেছন পেছন ঘুরতে ঘুরতে কাহিল হইয়া গেলে যাতে বইসা জিরাইতে পারি এই জন্য...

এই পাতার আরো খবর
up-arrow