Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:৩০
আজ আমাদের ছুটি শ্যাষ
ইকবাল খন্দকার
আজ আমাদের ছুটি শ্যাষ
কার্টুন : রবিউল ইসলাম সুমন আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

‘কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন বনে যাই’। ছুটি পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ এমনটাই বলেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ পথ হারিয়ে বনে যাওয়ার পরিকল্পনা বা আশঙ্কা করলেও ঈদ উপলক্ষে যারা লম্বা ছুটি পেয়েছিলেন, তারা কিন্তু পথও হারাননি, বনেও যাননি। সময়মতো টিকিট কেটে রেখেছিলেন, তারপর সোজা পাড়ি জমিয়েছিলেন বাড়ির পথে। ঈদের দিন চারেক আগের কথা। এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলল সে নাকি লম্বা ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে লম্বা ঘুম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বললাম, ঘুম দিলে আবার কবে না কবে এই ঘুম ভাঙে, অতএব কথাবার্তা যা বলার এখনই বলে নিই। রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়নি তো? বন্ধু বলল, সমস্যা খানিকটা হয়েছিল। আমি বললাম, কী সমস্যা? মাঝ রাস্তায় গাড়িটাড়ি নষ্ট হয়নি তো? বন্ধু বলল, গাড়ি নষ্ট হয়নি। আমার মাথা নষ্ট হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। জানালার পাশে বসে বাতাস খেতে খেতে জার্নি করতে না পারলে আমার মাথা ঘোরে, বমির উপক্রম হয় তুই তো জানিস। কিন্তু এই জার্নিতে আমি জানালার পাশে বসতে পারিনি। তাই জার্নিটা খুবই বাজে একটা জার্নি হয়েছে। আমি বললাম, ঈদের সময় যানবাহনে যা ভিড় হয়! জানালার পাশে সিট পাওয়া আসলে খুবই কঠিন। বন্ধু বলল, সিট পাওয়া মোটেই কঠিন না। সিট আমি পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভয়ে বসতে পারিনি। এবার আমার অবাক হওয়ার পালা, ভয়ে বসতে পারিসনি মানে? জানালার পাশে বসতে আবার ভয় কিসের? বন্ধু বলল, আমি যে রাস্তা দিয়ে এসেছি, তুই যদি সেই রাস্তাটা দেখতি তাহলে বুঝতে পারতি ভাঙা কাকে বলে। আশপাশের সব রাস্তা ভালো। কিন্তু কপাল আর কাকে বলে। যানজট এড়াতে গিয়ে ভাঙা রাস্তা দিয়েই রওনা করেছিলাম। গাড়ি এমনভাবে ঝাঁকুনি খাচ্ছিল আর দুলছিল, সিটে বসে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। আমি জানালার পাশে বসিনি এই ভয়ে, যদি আচমকা ঝাঁকুনি খেয়ে জানালা দিয়ে ছিটকে বাইরে পড়ে যাই? বন্ধুর মুখ থেকে ভাঙা রাস্তাজনিত সমস্যার কথা শুনে মনটাই খানিকটা ভেঙে গেল। ফোন কেটে বাইরে বের হলাম। গেটের কাছে যেতেই এলাকার বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। বললাম, অনেক লম্বা ছুটি তো পেয়ে গেলেন। গ্রামের বাড়ি যাবেন না? বড় ভাই বললেন, আমি তো যেতে চাই। কিন্তু তোর ভাবী যেতে চাচ্ছে না। আমি অবাক হয়ে বললাম, ভাবীও তো ছুটি পেয়েছেন। তাহলে যেতে রাজি হবেন না কেন? ভাই বললেন, অন্য বছর এত লম্বা ছুটি পাই না। তবু বাড়িতে গিয়ে এত লম্বা ঘুম দেই যে, তোর ভাবীর খবর হয়ে যায় ঈদের দিন সকালে আমাকে ডেকে ঘুম থেকে তুলতে গিয়ে। আর এবার তো লম্বা ছুটি। তাই ঘুমও লম্বাই হবে। তোর ভাবীর ধারণা আমাকে সে ডেকে তুলতেই পারবে না। তাই যেতে চাচ্ছে না। আমি বললাম, আপনার কথার মধ্যে গোঁজামিলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শহরে থাকলে যদি ভাবী আপনাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে পারে, তাহলে গ্রামে গেলে কেন পারবে না? বড় ভাই লাজুক ভঙ্গিতে বললেন, শহরে একবারের জায়গায় দুবার ডাকতে হলেই তোর ভাবী রেগে যায়। গ্রামে তো সবার সামনে চড়াও হতে পারবে না, তাই যাবেও না। আমি বললাম, আপনি এক কাজ করতে পারেন। ভাবীকে লিখিত একটা গ্যারান্টি দিতে পারেন। গ্যারান্টিপত্রে লেখা থাকবে, তুমি যদি আমার ওপর বরাক বাঁশ নিয়েও অ্যাটাক কর, তাহলেও আমার ফ্যামিলির লোকজন মাইন্ড করবে না...। আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বড় ভাই কেটে পড়লেন। যা-ই হোক, ঈদের আগের গল্প অনেক হলো।

এবার আসি ঈদের পরের গল্পে। লম্বা ছুটি কাটিয়ে গ্রাম থেকে শহরে ফিরতেই দেখা হয়ে গেল আমার খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে। এই বড় ভাই আবার একটু সংস্কৃতিমনা। নাটক সিনেমা বানানোর প্রতি তার বিশেষ ঝোঁক। সামনে পেলেই তার নির্মিতব্য নাটকের ঘ্যান ঘ্যান শুরু হয়। আমাকে দেখেই ছুটির কথা শুরু করলেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ছুটি, তাই না? হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গল্পটা নিয়ে আমার একটা সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছে আছে। ‘ছুটি’ গল্পের যে ছেলেটা, কী যেন নাম, ফটিক। আচ্ছা, ফটিকের চরিত্রে কাকে নেওয়া যায় বল তো!  বললাম, ৯ তারিখ পেরিয়ে গেছে।  ‘ছুটি’ বাদ দিয়ে এখন কাজের কথায় আসেন!

up-arrow