Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৮
সাবধানের মাইর নাই
ইকবাল খন্দকার
সাবধানের মাইর নাই
কার্টুন : কাওছার মাহমুদ আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

গতকাল এক প্রকাশকের সঙ্গে দেখা। বইমেলার পর যেহেতু তার সঙ্গে আর দেখা হয়নি তাই সামনে পেয়ে একদম জড়িয়ে ধরলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছেন? তিনি মাঝারি সাইজের একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ভাইরে, খুব একটা ভালো নেই। ডায়াবেটিসটা বেড়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে ভালো ছিলাম। আবার যে কবে ফেব্রুয়ারি আসবে! আমি হেসে বললাম, ফেব্রুয়ারি যখন আসার তখনই আসবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে কেন ভালো ছিলেন, এখন কেন ভালো নেই, রহস্যটা কি একটু বলবেন? প্রকাশক বললেন, ফেব্রুয়ারিতে খুব সাবধানে থাকতে হতো তো তাই ডায়াবেটিস কাছে ভেড়ার সাহস পায়নি। ফেব্রুয়ারির পর আর সাবধানও থাকা হচ্ছে না, ডায়াবেটিসও যারপরনাই জ্বালাচ্ছে। আমি তার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম, কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না ভাই। একটু ক্লিয়ার করেন। প্রকাশক ক্লিয়ার করলেন, ফেব্রুয়ারির বইমেলায় যদি ভালোভাবে নজর না রাখা হয় তাহলে স্টল থেকে বই চুরি হয়। ফলে আমি করতাম কি ছুটির দিনগুলোতে মানে যে দিনগুলোতে স্টলে বেশি ভিড় হতো, সেই দিনগুলোতে আমি চোর ধরার জন্য স্টলের চারপাশে চক্কর দিতে থাকতাম। এ চক্কর দেওয়ার কারণে আমার ডায়াবেটিস হাওয়া হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, তাহলে বিষয়টা দাঁড়াল এই যে, সাবধানের

মারও নেই, ডায়াবেটিসও নেই। আমার এক বন্ধু ফোন করে বলল, তুই কি আমার জন্য কিছু শপিং করে দিবি? বিশ্বাস কর, শপিং করা খুবই দরকার। কিন্তু শপিংমলে যেতে পারছি না একটা ভয়ে। আমি বললাম, তুই কোন ভয়ের কথা বলছিস, আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু এতো ভয় পেলে তো হবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে বুকে সাহস রাখতে হবে। বন্ধু বলল, তুই যা মনে করছিস ব্যাপার কিন্তু তা না। আমি শপিংমলে যেতে পারছি না অন্য কারণে। আমি বললাম, কারণটা তাহলে বলে ফেল শুনি। বন্ধু বলল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই একটু বেশি সাবধানতা অবলম্বন করছে। এটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ। তবে আমার যেটা হয়েছে, শপিংমলের গেট দিয়ে ঢোকার সময়ই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ি। আসলে বডিতে হাত দিয়ে বডি চেক করা হয় তো! তাই আমার কাতুকুতু লাগে আর সেইরকম হাসি ওঠে। সবার সামনে এভাবে হাসলে মানুষ আমাকে ‘বেক্কল’ বলবে না? আমার এক ছোটভাই আছে। উদাসীনতার ষোল আনা তার মধ্যে লক্ষণীয়। তার একটা প্যান্টের পকেটও আস্ত নেই। কীভাবে কীভাবে যেন সবগুলোরই সেলাই খোলা।

একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম প্যান্টের সেলাই কীভাবে ছেঁড়ে? সে উত্তর দিয়েছিল, কয়েনের ভারে। পরশুদিন তার সঙ্গে দেখা হতেই প্রথমে সে পকেটের কথা উত্থাপন করল, না ভাই, এখন আর আমার প্যান্টের

পকেট ছেঁড়া নেই। সব মেরামত করে ফেলেছি। আমি বললাম, তোর এ উন্নতি কীভাবে হলো? সে বলল, সবই আমার বাড়িওয়ালার অবদান। বাইরে থেকে মেসে ঢোকার আগে সে নিজে সবার বডি চেক করে। প্যান্টেও হাত ঢোকায়। সুতরাং প্যান্টের পকেট মেরামত করা না থাকলে সমস্যা না? আমার প্রতিবেশীকে বেশ হাসিখুশি অবস্থায় পাওয়া গেল। আমিও মুখে হাসি নিয়েই জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে একটু জানা যাবে? প্রতিবেশী বললেন, আমি আমার নিজের গান শুনে নিজেই বিরক্ত হতাম। দেশে এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেড়ে যাওয়ার কারণে আর আমাকে গানও গাইতে হচ্ছে না, নিজের গান শুনে বিরক্তও হতে হচ্ছে না। আমি বললাম, আপনার কথার রহস্য উদঘাটন করার মতো জ্ঞান আমার নেই। সুতরাং রহস্যটা আপনিই উদঘাটন করে দেন। প্রতিবেশী আমার কথা রাখলেন, আমি রাত ১২টার দিকে রোজই বাসায় ফিরি। এ সময়টায় বাজারের পাশে যে ফাঁকা জায়গাটা আছে, সেখানে খুবই নীরবতা বিরাজ করত। ভয়ে আমার কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতো। এ অবস্থা কাটানোর জন্য আমি জোরে জোরে গান গাইতাম। খুশির ব্যাপার হলো, এখন এ জায়গাটায় নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। সারারাতই পুলিশ থাকে। ব্যস, আমাকে আর ভয় কাটানোর জন্য গান গাইতে হয় না। ভাইরে, আমি আমার জঘন্য গানের কবল থেকে কী যে বাঁচা বেঁচে গেছি!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow