Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪২
গরু ম্যানেজমেন্ট
গরুর লাথির কবল থেকে দাঁত বাঁচাতে হেলমেট কিনলাম। আর পায়ে বাঁধার দুটো জিনিসও কিনেছি মূলত এই কারণেই। লাথি লাগলে যদি পায়ের হাড় ফেটে যায়! আর হাতের গ্লাভস কিনেছি রশি ধরে টানাটানি করার সুবিধার্থে...
ইকবাল খন্দকার
গরু ম্যানেজমেন্ট
কার্টুন : কাওছার মাহমুদ আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

আমার এক বন্ধু ক্রিকেটের ঘোর বিরোধী। ক্রিকেটের নাম শুনলেই তার মাথা গরম হয়ে যায়। তার যুক্তি হচ্ছে— মানুষের জীবন অত্যন্ত ছোট। এই ছোট্ট জীবনে ক্রিকেট খেলা দেখার চেয়ে বড় বোকামি আর কিছু নেই। কারণ, একমাত্র ক্রিকেট খেলাই মানুষের জীবন থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কেড়ে নেয়। আর যদি টেস্ট ক্রিকেট হয়, তাহলে শুধু ঘণ্টা না, দিন কেড়ে নেয়। প্রায় সপ্তাহ কেড়ে নেয়। আমার এই ক্রিকেটবিরোধী বন্ধুকেই গতকাল দেখলাম বাজার থেকে ক্রিকেট সরঞ্জাম কিনে নিয়ে বাসায় ফিরছে। আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরে চিমটি কাটলাম। বললাম, আমি স্বপ্ন দেখছি না তো! তোর হাতে ক্রিকেট সরঞ্জাম? এটা বিশ্বাস করা যায়? বন্ধু বলল, ঠেলায় পড়েছি রে দোস্ত। এগুলো কেনা ছাড়া উপায় ছিল না। আমি বললাম, ঠেলায় পড়ে কেউ ক্রিকেট সরঞ্জাম কেনে, জীবনে এই প্রথম দেখলাম এবং শুনলাম। এবার বল বিষয় কী। বন্ধু সবিস্তারে বলা শুরু করল, পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে আব্বু বিরাট সাইজের একটা গরু কিনেছে। গরুটা সাংঘাতিক বদমেজাজি। যখন তখন তেড়ে আসে। আর এমন জোরে লাথি মারে, রোনাল্ডো, মেসি, নেইমাররাও বোধ হয় এত জোরে লাথি দিতে পারে না। আমি দেখলাম এই লাথি খেলে দাঁত পড়ে যাবে। তখন লাথি খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। মাংস বা পিঠা আর খাওয়া হবে না। তাই গরুর লাথির কবল থেকে দাঁত বাঁচাতে হেলমেট কিনলাম। আর পায়ে বাঁধার দুটো জিনিসও কিনেছি মূলত এই কারণেই। লাথি লাগলে যদি পায়ের হাড় ফেটে যায়! আর হাতের গ্লাভস কিনেছি রশি ধরে টানাটানি করার সুবিধার্থে। খালি হাতে টানাটানি করলে হাতে ঠসা পড়ে যাবে না? বন্ধুর কথা শুনে বুঝলাম, গরু সামলানো চাট্টিখানি কথা না। অবশ্য আমার এক চাচার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে এই ধরনেরই একটা ধারণা পেয়েছিলাম। চাচা খুব আফসোস করছিলেন সংসারের বাড়তি খরচ নিয়ে। আমি সাগ্রহে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তো খুব হিসেবী লোক। হঠাৎ করে আপনার সংসারের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণটা কী? চাচা বললেন, গরু। আমি বললাম, একদমই আমাকে গরু বলবেন না। ছাত্রজীবনে স্যারের মুখ থেকে ‘গরু’ শুনতে শুনতেই মনটা তিতা হয়ে গেছে। চাচা বললেন, আরে গরু, তোরে ‘গরু’ বলি নাই। বলছি আমার সংসারের খরচ বাইড়া গেছে গরুর কারণে। আমি বললাম, কীভাবে? চাচা বললেন, আঁৎকা দড়ি ছিঁড়া গরু আমারে দৌড়ানি দিল। দৌড়াইতে দৌড়াইতে আমার গেল জুতা ছিঁড়া। এক জোড়া জুতা ছিঁড়া মানে দেড়শ টাকা গায়েব। আমার দৌড় দেইখা তোর চাচীও ভয়ে দিল দৌড়। পিছলা খাইয়া পইড়া কোমরে লাগল চোট। দেখা দিল পুরনো বাতের বেদনা। কবিরাজের পেছনে পাঁচশ টাকা গেল গা। আর আমার এক প্রতিবেশী আমারে বাঁচাইতে গিয়া আমার পেছনে দৌড় দিল। এ সময় পায়ের লগে প্যাঁচ লাইগা ফড়াৎ কইরা তার লুঙ্গি গেল ছিঁড়া। সেই লুঙ্গির টেকাও এখন আমার দিতে হইতাছে। ভাবতাছি সস্তায় লুঙ্গি কিন্না দিয়া দিমু কিনা। আমার এক ছোট ভাই বলল, যারা লাঠিচার্জকে ভয় পায়, আমি মনে করি আসল ভয়ের জিনিসের সঙ্গে তারা এখনো পরিচিতই হতে পারেনি। আমি বললাম, সেই ভয়ের জিনিসটা কী? ছোট ভাই বলল, গরুর ‘লেজচার্জ’। বাপরে বাপ, লেজ দিয়ে যখন একটা বাড়ি মারে, মনে হবে আপনি সরিষা ক্ষেতে অবস্থান করছেন। চোখে সরিষা ফুল ছাড়া আর কিচ্ছু দেখবেন না। আমার এক আত্মীয় বলল, বুঝলেন, আমার বউ আমাকে সবসময় গরুর সঙ্গে তুলনা করে। বলে আমার নাকি কোনো বুদ্ধি জ্ঞান নেই, এই জন্য আমি গরু। আমি আজকে এমন একটা কথা বলেছি, আমার বউয়ের মুখে একদম তালা লেগে গেছে। বলেছি আমার সঙ্গে গরুর কোনো মিল নেই। তবে তোমার আব্বার সঙ্গে মানে আমার শ্বশুরের সঙ্গে মিল আছে। আমি বললাম, কীভাবে? আত্মীয় বলল, আমার শ্বশুরও সারাদিন পান চিবায়, গরুও সারাদিন পান চিবায়। মানে জাবর কাটে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow