Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৩
ভুয়া গবেষণা
মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্টে যারা থাকবেই
আলিম আল রাজি
মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্টে যারা থাকবেই

মোবাইল ফোনে সেইভ করে রাখা ৮০ ভাগ নম্বরই ‘স্বাভাবিক’। এদেরকে ফোন করলে পাওয়া যায়। এরাও মাঝে মাঝে ফোন দেয়। বাকি ২০ ভাগ হচ্ছে ‘অস্বাভাবিক’। এই অস্বাভাবিক ২০ ভাগ নিয়েই এই গবেষণা।

 

১। কোনোদিনও তাকে পাই না— ৫%

 

এদের মোটামুটি ১০টা নম্বর থাকে। এদের নম্বর সেইভ করা থাকে এভাবে— সাইফুল ১, সাইফুল ২, সাইফুল ৩, সাইফুল নিউ, সাইফুল আম্মা, সাইফুল বাসা, সাইফুল টিএনটি ইত্যাদি। এরা আপনাকে একেকদিন একেক নম্বর থেকে ফোন দেবে। কিন্তু আপনি দরকারের সময় এদের একটা নম্বরও খোলা পাবেন না।

 

২। আমি পাই না ছুঁতে তোমায়— ২%

 

এদের ফোন খোলা থাকে, ফোন দিলে রিসিভও করে। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় ফোন

ধরার পরে। এই দুই পার্সেন্টের  ফোনে কল দিলে প্রথম ২০ সেকেন্ড ভালো মতো কথা শোনা যায়। তারপরই শুরু হয় যন্ত্রণা। এদের নেটওয়ার্ক আস্তে আস্তে নাই হয়ে যেতে থাকে। আপনি তাদের কথা শুনতে পান এইভাবে— ‘জি ভাই, ঐ যে

গররর... বিয়ে... গুররর... খাবো... আমেরিকা... বররর... আফ্রিকা’। আপনার বিরক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ওপাশের নেটওয়ার্ক চলে যায় এবং তারপর লাইনটা কেটে যায়।

 

৩। একটুকু ছোঁয়া লাগে— ৪%

এরা আপনাকে ফোন দেয়। ফোন দেওয়ার ৯ সেকেন্ড পরেই এদের ব্যালান্স শেষ হয়ে যায়। তারপর কলটা আপনাকেই ব্যাক করতে হয়। কল ধরে এরা হাসি দিয়ে বলে, ‘স্যরি ভাই, ব্যালান্স শেষ’। তারপর শুরু হয় তাদের প্যাঁচাল। প্যাঁচাল চলতেই থাকে চলতেই থাকে।

 

৪। আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত— ৬%

এরা জীবনেও আপনাকে ফোন দেবে না। দেবে তখন, যখন আপনি পাবলিক বাসে ঝুলছেন অথবা আপনি ব্যাংকের লাইনে ঠেলাঠেলিতে ব্যস্ত আছেন অথবা আপনি বসের সঙ্গে জরুরি মিটিং করছেন অথবা আপনি আপনার নতুন উপন্যাসের ক্লাইমেক্স অংশ লিখছেন। ফোন দিয়েই তারা আয়েশি ভঙ্গিতে বলা শুরু করবে, ‘কী ভাই, কী অবস্থা? আজকাল কেমন যাচ্ছে সবকিছু? শরীর-টরির ভালো? ভাবীর কী অবস্থা? ও আপনি তো বিয়েই করেন নাই। তা বিয়ে শাদী করেন মিয়া। দেখমু নাকি পাত্রী। কেমন পাত্রী আপনার পছন্দ বলেন  দেখি... আরে বলেন, বলেন, লজ্জার কী আছে...’

 

৫। কেবলই ভুল হয়ে যায়— ২%

 

এরা আপনাকে ৬ মাসে একবার ফোন দেবে। ফোন দিয়ে খুব ব্যস্ত গলায় বলবে, ‘কে? হাবিব না?’ আপনি উত্তরে বলবেন, ‘না আমি কামরুল।’ তারপর এরা উত্তর দেবে, ‘আরে কামরুল ভাই, কী অবস্থা? আপনার নম্বর হাবিব লিখে সেইভ করলাম কেন বুঝলাম না। আচ্ছা কী অবস্থা বলেন।’ ঠিক ৬ মাস পর এরা আবার ফোন দেবে এবং একই ঘটনা ঘটাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow