Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৪২
ভুয়া গবেষণা
নাটকের প্রেম ধরনিতে নাই
কাসাফাদ্দৌজা নোমান
নাটকের প্রেম ধরনিতে নাই

মেয়েটিকে যা দিই তাই ফেলে দেয়!

: কী কী দিয়েছিস?

প্রথমে দিলাম চকলেট। ফেলে দিল।

তারপর দিলাম ফুল তাও ফেলে দিল। এরপর দিলাম কল সেটাও এক প্রকার ফেলে দিল। শেষমেশ সবচেয়ে বড় জিনিসটা দিলাম। ভাবলাম এটা তো অন্তত নেবে। কিন্তু সেটাও ফেলে দিল।

: বড় জিনিসটা কী?

প্রেম!

বিষয়টা বড় সমস্যার। প্রেম ফেলে দেওয়া মেয়েদের পুরনো অভ্যাস। এ সমস্যায় সৃষ্টির শুরু থেকে পুরো পুরুষ জাতি ভুগেছে। তবে আমারটা আবার উল্টো, শুধু নেয়। ফুল দিলে নেয়, চকলেট দিলে নেয়, প্রেম দিতে চাইলেই বলে— ভাইয়া! অথচ সেদিন নাটকে দেখলাম ফুল দেওয়ার পর আর চকলেট দিতে হয়নি। এতটুকুতেই প্রেম হয়ে গেল। তারপর তারা সেলফি তুলল, আপলোড দিল। কুটকুট করে ঝগড়া করল। অথচ আমাদের কী হাল! তাহলে নাটক কী মিছে?

 

ক্ষেপবেন না। আমি মোটমাট চারটি নাটকের স্টাইলে  প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছি। কোনোটাতেই কাজ হয়নি। অথচ নাটকে দেখা গেছে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়ে এক সময় ছেলেটা বাবাও হয়ে গেছে। কী নির্মম। বলছি তাহলে ঘটনা।

 

বগিতে বাকবাকুম প্রেম নাটকে দেখা গেছে একটা  ছেলে একটা মেয়ে ট্রেনে যায়। ছেলেটা মেয়েটাকে  দেখে, মেয়েটা ছেলেটাকে দেখে। তারা শুধু দেখে। একসময় তারা কথা বলে। তাদের প্রেম হয়। অথচ আমার বেলায় কী হলো? ট্রেনে অনেক কষ্টে একটা মেয়ে খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি তাকে দেখি, সে আমাকে দেখে না। কীভাবে দেখানো যায়? গান গাইতে শুরু করলাম। একবার দেখে কানে হেডফোন দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। অনেক চেষ্টা করেও তাকে না দেখাতে পেরে আশাহত হইনি। তার হয়তো অমন চোখ নেই আমাকে দেখার মতো। শেষে কাছে গিয়ে কথা বললাম, যেভাবে নাটকে বলে!

: পৃথিবীর সব ফোন নম্বরে অন্তত চারটা ডিজিট মিল আছে।

কিন্তু মেয়ে কোনো উত্তর দিলো না। অথচ নাটকে বলেছিলো, ‘কীভাবে?’

তখন নাটকের ছেলেটি বলেছে, আপনার নম্বরটি দেন। এক্ষুনি দেখাচ্ছি। তারপর ছেলেটা মেয়েটার নম্বর নিয়ে  মেসেজ পাঠায়— ‘চলেন, ক্যান্টিনে গিয়ে চা খাই। ’ আমি অনেক চেষ্টা করলাম। তাকে অনেক বুঝিয়েছি যে তার ফোন নম্বর যদি আমাকে দেয় তাহলে তাকে আমি প্রমাণ করে দেব পৃথিবীর সব মোবাইল নম্বরে অন্তত চার ডিজিট মিল আছে! কিন্তু সে দেয়নি। উল্টো  রেলওয়ে পুলিশকে নালিশ করেছে।

তার পরেরটা তো আরও ভয়াবহ।

‘প্রেমের বাধা, মানে কোন গাধা’ নাটক অনুযায়ী পছন্দের মেয়েকে বলেছিলাম, ‘আজ যদি তুমি আমার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হও তবে বড় বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে। একজন প্রেমের প্রস্তাবে তাচ্ছিল্য করেছিল। তার আজ তিন সন্তান, সারা দিন সময় যায় তাদের জন্য রান্নাবান্না করতে করতে। ’

জবাবে নাটকে বলেছিল, আই লাভ ইউ।

আর বাস্তবে বলেছে, আমি তিন সন্তানের মা হবো। তোমার সমস্যা কী?

 

এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ হাসছেন? হাসবেনই  তো মানুষের খারাপ সময় তো হাসিরই। এই বাংলা নাটকই আমাকে হাসির পাত্র বানিয়েছে। তাহলে শুনুন পরের ঘটনা। এটা আরও বেশি প্যাথেটিক।

 

মেয়ে বিদেশ থেকে দেশে ঘুরতে এসেছে। তাকে ঢাকা শহর দেখানোর দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর। ‘মাই ডিয়ার ফরেনার’ নাটকে দেখেছি এমন। ঢাকা শহর  দেখাতে গিয়ে নিজেকে দেখায়। তারপর তাদের প্রেম হয়ে যায়। মেয়েটা ছেলেটাকে আমেরিকায় নিয়ে যায়। আমারও নিশ্চয়ই এমন কিছু হবে। আমিও নিশ্চয়ই আমেরিকা যাব। দুদিনের মধ্যেই কাজে নেমে পড়লাম। ভালো ডিজাইনের আধুনিক মনকাড়া এবং বাহারি রঙের জামা-কাপড় কিনলাম। একটা সানগ্লাস কিনলাম। বিদেশি বলে কথা, একটু বাড়তি যত্ন তো নিতেই হবে।

ঢাকা ঘুরে দেখানোর ফাঁকে একদিন তার হাতে একগোছা ফুল দিয়ে ঠিক ‘মাই ডিয়ার ফরেনার’ নাটকের মতো বললাম, এই যে নাও। এই ফুলগুলো  তোমার জন্য। তুমি ফুলের মতো সুন্দর। আমি ফুল ভালোবাসি।

নাটকে নায়িকা জবাব দিয়েছিল, ওয়াও! ফুল। ভেরি সুইট। আই লাভ ইউ ঠু!

আর বাস্তবে মেয়েটি ফুল ছুড়ে দিয়ে বলেছে, বুলশিট! ইউ রাবিশ ফুল!

নাটকের প্রেম অনেকটা রেসলিংয়ের মতো। সবাই ভাবে বাস্তব, আসলে সাজানো। এমন অবাস্তব প্রেম দেখার কারণে কোটি কোটি হাবাগোবা-কোমলমতি প্রেমিকরা ভুলপথে প্রেম নিবেদন করে ধরা খাচ্ছে। প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে বিরহের কবিতা লিখছে। এসব কোমলমতি প্রেমিকদের জন্য বাস্তবমুখী প্রেম করার দিক-নির্দেশিকাময় নাটক নির্মাণের আশা করছি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow