Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১৩
অটোগ্রাফ লাগবে?
কাসাফাদ্দৌজা নোমান
অটোগ্রাফ লাগবে?

বইমেলা শুরু হয়েছে অথচ একজন লেখক হয়েও আমি সুখে নেই। প্রথমে আমার পরিচয় দিয়ে নিই।

আমি একজন ওজনদার লেখক, ওজন ৯৯ কেজি। অনেকেই বলেছে ওজন কমান। তারা জানে না  লেখকদের ওজনদার হতে হয়।

স্বপ্ন ছিল মেলায় যাব, অটোগ্রাফ দিতে দিতে তটস্থ হয়ে যাব। হাত ব্যথা করবে, পা ব্যথায় খুলে যেতে থাকবে। তবুও ভক্তদের চাপ কমবে না। কিন্তু কিসের কী! সারা দিন বসে থাকে কেউ এসে বলে না, প্লিজ একটা অটোগ্রাফ হবে!

কিন্তু অটোগ্রাফ তো আমাকে দিতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিনই স্টলের সামনে বিরাট সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলাম।

‘এখানে স্বল্প সময়ে অধিক দ্রুততার সঙ্গে পরিচ্ছন্ন হাতের লেখায় কিউট কিউট অটোগ্রাফ দেওয়া হয়। ’

হাসি হাসি মুখ নিয়ে সারা দিন অপেক্ষা করলাম। মানুষ আসে সাইনবোর্ড দেখে হাসতে হাসতে চলে যায়। দুষ্টু নারীরা সাইনবোর্ডের সঙ্গে সেলফিও তোলে। কিন্তু অটোগ্রাফ আর নেয় না। রাগে দুঃখে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি আর কখনোই অটোগ্রাফ দিব না। এই শপথ বন্ধুকে জানানোর পর বন্ধু নতুন আইডিয়া দিল।

 

যারা অটোগ্রাফ দিবে তাদের মধ্য থেকে দশজনকে বাছাই করা হবে র‌্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে। বাছাইকৃত সৌভাগ্যবানদের দেওয়া হবে ঢাকা টু সিঙ্গাপুর রিটার্ন টিকিট। ক্যাম্পেইনের নাম হবে, ‘অটোগ্রাফ নাও সিঙ্গাপুর যাও’! নিজের মনেই কয়েকবার বাহ বলে উঠলাম। এইবার অটোগ্রাফ না নিয়ে যাবে কই। আমাদের যে স্বভাব কিছু না  পেলে দিতে চায় না। পরদিন যেই ভাবা সেই কাজ। একটা বড় সাইনবোর্ড বানিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। বিশাল করে স্টলের সামনে লাগিয়ে দেওয়া হলো। সেখানে আমার ছবি। হাতে নিজের বই ধরে আছি। বই থেকে একটা বিমান উড়ে যাচ্ছে। নিচে সিঙ্গাপুর শহর  দেখা যাচ্ছে।

 

এক বাচ্চা এসে সাইনবোর্ড দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, এই লোকটা কী তুমি? আমি মুখ হাসি হাসি করে জবাব দিলাম, জি, বাবা আমি!

বাচ্চা ভয়াবহ খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করল, আংকেল আংকেল সাইনবোর্ড ওই বিমানটা কই পাওয়া যাবে বলতে পার? আব্বু বলেছে, বইমেলায় নাকি বিমান পাওয়া যায় না!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow