Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
ভাসা ভাসা ভালোবাসা
ইকবাল খন্দকার
ভাসা ভাসা ভালোবাসা
কার্টুন : কাওছার মাহমুদ, আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

এলাকার লোকজন আমাদের শিরি-ফরহাদ বলে ডাকত। আমরাও একজন আরেকজনকে শিরি-ফরহাদ নামেই ডাকতাম।

যেহেতু সে আমাকে ছ্যাঁকা দিয়েছে, তাই আমি চাই না তার নাম মনে করতে...

 

পরশু দিন আমার এক ছোটভাইয়ের সঙ্গে দেখা। দেখেই বুঝলাম তার মন-মেজাজ খুবই খারাপ। সবার সামনে মন খারাপের কারণ জিজ্ঞেস করলে যদি উল্টাপাল্টা কিছু একটা বলে ফেলে আর বড়ভাই হিসেবে আমাকে লজ্জা পেতে হয়, তাহলে একটু সমস্যা। তাই আমি তাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললাম, কী হয়েছে? কোনো সমস্যা? ছোটভাই বলল, সমস্যা মানে! বিরাট সমস্যা। বললাম, সেই বিরাট সমস্যাটাই শুনতে চাই। কী হয়েছে ঝটপট বলে ফেল। ছোটভাই বলল, রাত পোহালে ভালোবাসা দিবস। এই মুহূর্তে ভালোবাসা আমাকে এতটা কষ্ট দেবে, আমি আসলে বুঝতে পারিনি। আপনি যাই বলেন, এটা মানা যায় না।

আমি বললাম, এত রহস্য কেন করছিস বাপু! কী হয়েছে একটু খুলে বল। ছোটভাই বলল, সে আমাকে ভালোবাসে কি-না জানি না। না বাসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে আমি তাকে ভালোবাসি। সাংঘাতিক রকমের ভালোবাসি। আর ভালোবাসি বলেই গিয়েছিলাম তাকে ফুল দিতে। কিন্তু এমন বিপদে পড়তে হবে বুঝতে পারিনি। আচ্ছা, আপনার খোঁজে কি নাক কান গলাবিশেষজ্ঞ আছে? আমি বললাম, তুই তো দেখছি একটার পর একটা রহস্য করছিস। কী হয়েছে, আগে সেটা পরিষ্কারভাবে বল। ছোটভাই বলল, ফুল দিয়েছিলাম পাশের বাসা থেকে চুরি করে। আমি যাকে পছন্দ করি, সে এই ফুলটা নাকে ঠেকিয়ে যেই গন্ধ শুঁকতে চাইল, অমনি কী একটা নাকি তার নাকের ভিতরে ঢুকে গেল। এখন নাকি তার মনে হচ্ছে নাকের ভিতর দিয়ে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ করে মোটরসাইকেল যাচ্ছে। তার মানে মশা মাছি টাইপের কিছু একটা ঢুকে গেছে। এখন আপনিই বলেন, আমি ভালোবাসাবাসি করব নাকি নাক কান গলাবিশেষজ্ঞ খুঁজব! আর যে বাজেট রেখেছিলাম ডেটিংয়ের জন্য, সেটা যদি নাক কান গলাবিশেষজ্ঞের ফি-এর পেছনেই খরচা হয়ে যায়, তাহলে...

আমার এক বড়ভাইয়ের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। সাধারণত এই বয়সে মানুষের ভুঁড়িটুরি হয়ে যা তা অবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু বড়ভাই একেবারেই স্লিম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এই বয়সেও এত স্লিম, কীভাবে এইটা সম্ভব? বড়ভাই বললেন, সবই ভালোবাসার অবদান। পৃথিবীতে ভালোবাসা জিনিসটা আছে বলেই আমি এমন স্লিম থাকতে পারছি। আমি বললাম, আপনার কথার আগামাথা তো কিছুই বুঝতে পারলাম না। যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন। বড়ভাই বুুঝিয়ে বললেন— দৌড়াদৌড়ি ছোটাছুটি করলে স্লিম থাকা যায়, এটা তো নিশ্চয়ই জানিস? আমি বললাম, জানি। বড়ভাই বললেন, ভালোবাসা আমাকে ধরা দেয় না। তাই আমি ভালোবাসার পেছনে ছুটছি তো ছুটছিই। এভাবে ভালোবাসার পেছনে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আমার আর ভুঁড়ি হয় না। আমি ক্যাটরিনার চেয়েও স্লিম। ভালো না? আমি বললাম, আপনার কথা শুনে কেন যেন মনে হচ্ছে আপনি বাংলা সিনেমার সেই রবিউল যে সবসময়ই ভালোবাসার পেছনে ছুটতেন। তার নামের শেষে ‘লিকলিকে’ কথাটা তো আর এমনি এমনি যোগ হয়নি!

 

আমার এক বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা। আমি তাকে নিয়ে এক পত্রিকা অফিসে গেলাম। তিনতলায় অফিস। লিফট নেই। আমি তাকে বললাম, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। সে বলল, তাহলে তুই যা। আমি যাব না। আমি বললাম, তিনতলায় তুই লিফট ছাড়া উঠতে পারবি না? এইটা একটা কথা হলো? বন্ধু বলল, ব্যাপার সেটা না। ব্যাপার হচ্ছে, কিছুদিন আগে আমি ছ্যাঁকা খেয়েছি। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে তার কথা মনে পড়বে, যার সঙ্গে আমি ভালোবাসাবাসি করতাম।

অর্থাৎ যে আমাকে ছ্যাঁকাটা দিয়েছে। আমি বললাম, মানে কী? সে বলল, আমরা দুজন দুজনের এতটাই আপন ছিলাম যে, এলাকার লোকজন আমাদেরকে শিরি-ফরহাদ বলে ডাকত। আমরাও একজন আরেকজনকে শিরি-ফরহাদ নামেই ডাকতাম।

যেহেতু সে আমাকে ছ্যাঁকা দিয়েছে, তাই আমি চাই না তার নাম মনে করতে। কিন্তু লিফট দিয়ে না উঠে ‘সিঁড়ি’ দিয়ে উঠতে ‘শিরি’র কথা তো মনে পড়বেই। পড়বে না?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow